বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

থাইল্যান্ডে জ্বালানি সাশ্রয়ে সিঁড়ি ব্যবহার ও বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ

সোনার দেশ ডেস্ক ১০ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১০ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ন
থাইল্যান্ডে জ্বালানি সাশ্রয়ে সিঁড়ি ব্যবহার ও বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকটে পড়া থাইল্যান্ডে সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।


মঙ্গলবার সরকারের এক মুখপাত্র জানান, সাশ্রয়ী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করা এবং লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সরকারি মুখপাত্র লালিদা পেরিসউইভাতানা সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে আজ (মঙ্গলবার) থেকেই সরকারি কর্মকর্তারা বাসা থেকে কাজ করবেন।”


তবে যেসব কর্মকর্তার সরাসরি জনগণকে পরিষেবা দিতে হয়, তারা এই নির্দেশের বাইরে থাকবেন বলে তিনি জানান।


জ্বালানি মন্ত্রী আত্তাপোল রের্কপিবুন জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতির দেশে বর্তমানে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে।


দেশটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সংকট মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানির চাহিদা কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।


সরকারি মুখপাত্র লালিদা জানান, অন্যান্য সাশ্রয়ী ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে- শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা এবং স্যুট-টাইয়ের মতো আনুষ্ঠানিক পোশাকের বদলে স্বল্প হাতার শার্ট পরিধান করা।


থাইল্যান্ডের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৮ শতাংশ মেটানো হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে।


এর অর্ধেকের বেশি আসে থাইল্যান্ড উপসাগর থেকে, আর ৩৫ শতাংশ গ্যাস আমদানি করতে হয়। আমদানিকৃত গ্যাসের ১৩ শতাংশ আসে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে।


এর আগে চলতি মাসের শুরুতে লাওস ও মিয়ানমার বাদে অন্য সব দেশে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেয় থাইল্যান্ড।


থাই সরকারের মুখপাত্র লালিদা আরও জানান, প্রয়োজন ছাড়া বাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রেখে অফিস ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এছাড়া সাধারণ মানুষকে কার্পুলিং বা গাড়ি ভাগাভাগি করে যাতায়াতের মতো সাশ্রয়ী পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানাবে সরকার।


সরকারের এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সরকার বাধ্যতামূলক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।


যার মধ্যে রয়েছে দোকান, সিনেমা হল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনী বাতি বা নিওন সাইন বন্ধ রাখা এবং রাত ১০টার মধ্যে সব গ্যাস স্টেশন বা জ্বালানি পাম্প বন্ধ করে দেওয়া।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ