বুধবার, মে ০৬, ২০২৬

দাম বৃদ্ধি হলেও সরকারের বেঁধে দেয়া দামে মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার

গোলাম রসুল দুর্গাপুর ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
গোলাম রসুল দুর্গাপুর ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
দাম বৃদ্ধি হলেও সরকারের বেঁধে দেয়া দামে মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার

সরকার এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করলেও সরকারে বেঁধে দেওয়া দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। দুর্গাপুরে প্রায় সব দোকান গুলোতেই বিভিন্ন কোম্পানীর এলপিজি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। তবে অনেক ক্রেতারা বাজার মণিটরিংএর অভাবকেও দায়ী করছেন। 


জানা গেছে, এপ্রিলে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতি কেজিতে বাড়ানো হয় ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। আর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে, ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা।


গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এরপর এলপিজির আমদানি শুল্ক কমানোর পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দাম সমন্বয় করে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়।


দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র দোকান গুলোতে ঘুরে দেখা গেছে ১২ কেজি রিফিল সিলিন্ডারের দাম নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা। যা সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে প্রতি রিফিল সিলিন্ডার নেয়া হচ্ছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকাও বেশি। তবে বিক্রেতারা বলছেন জ¦ালানি সংকটে কারণে ডিলাররা তাদের কাছ থেকে গ্যাসের দাম বেশি নেয়া ও গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ার কারনে তাঁরা সরকারের বেঁধে দেয়া দামে গ্যাস বিক্রি করতে পরছেন না।


তাঁরা বলছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। যার কারনে খুচরা বাজারে এমন পরিস্থিতি। গ্যাস ব্যবহারকারী কয়েকজন ক্রেতা জানান, কখন গ্যাসের দাম কমে, বাড়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারি না। এতে করে লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা। আর ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা ক্রেতারা। এছাড়া তারা আরো বলেন, বাজারে যে সকল পয়েন্টে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা হয় সেই পয়েন্টগুলো যদি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মণিটরিং করা হয় তাহলে অনেকটাই শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে। 


কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ভেবেছিলাম সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরে আর গ্যাসের সংকট থাকবে না। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ানোর সাথে সাথে আরও সংকট বেশি দেখা দিয়েছে। কোথায় ঠিকমত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও সরকারে বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম যে যারমত নিচ্ছেন। ১৯০০-২০০০ হাজার টাকার নিয়ে একটি ১২ কেজির রিফিস সিলিন্ডার গ্যাস মিলছে না।


এবিষয়ে জানতে কয়েকজন গ্যাস বিক্রেতার সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, সরকার হুটহাট করে গ্যাসের দাম কমায় আর বাড়ায়। আমরা যাদের কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে থাকি তারা মূলতো বেশি দাম ধরে। তারা সরকারের বেঁধে দেয়া দামে গ্যাস বিক্রি করে না। যার কারণে আমরা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে গ্যাস বিক্রি করতে পারি না। কারণ আমাদের খরচটা একটু বেশি পড়ে যায়। এছাড়াও গাড়িভাড়া বেড়ে গেছে। আর ওইসকল ব্যবসায়ীদের কারণে আমরা ছোটখাটো ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ক্ষতিহগ্রস্ত হই।


এবিষয়ে জানতে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশতুরা আমিনার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।