মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

গুম প্রতিরোধসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:১৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:১৬ অপরাহ্ন
গুম প্রতিরোধসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

গুম প্রতিরোধসহ মানবাধিকার সুরক্ষায় জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবাধিকার সংগঠন‘অধিকার’। বক্তারা বলেন, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে প্রণীত আইন বাতিলের উদ্যোগ দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও সংশোধন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রাš Íঅধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতাবৃদ্ধি, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকরা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিল আকাওে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কওে বলেন, গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে। সে সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল।

তারা আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা জরুরি ছিল। কিন্তু তাবাতিলেরমাধ্যমে আবারওপুরোনোকাঠামোয়ফিরেযাওয়ার আশঙ্কা তৈরিহয়েছে।

মানববন্ধনে গুমের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, গুমের শিকার অনেকেই এখনও ফিওে আসেননি এবং তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। অথচ যাদের দলীয় নেতাকর্মীরাও গুমের শিকার হয়েছেন, সেই দলীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকেই গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ এসেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধিকার’র রাজশাহী সমন্বয়ক সাংবাদিক মঈন উদ্দিন। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, রাজশাহী সাংবাদিকইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মানবাধিকারকর্মী আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন ফিরোজ, সামাজিক ও পরিবেশ কর্মী আহসান হাবিব, সাংবাদিক এম শামিম, সাংবাদিক হুজাইফাসহ রাজশাহী জেলা ও নগরীর অধিকারকর্মীরা। এ সময় অধিকার’র বিবৃতি পাঠ করেন, গুম থেকে ফিওে আসা ভুক্তভোগী আল আমিন হোসেন।

বক্তারা অবিলম্বে এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তাদের মতে, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।