সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

ফ্লাইওভারের কাজ বন্ধের দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
ফ্লাইওভারের কাজ বন্ধের দাবি, না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রাজশাহী নগরীর বিন্দুর মোড় থেকে অলোকার মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের আপত্তি জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। এই ফ্লাইওভারের কাজ বন্ধ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। তারা বলেন, এই ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে এলাকার জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ হিসেবে দেখা দিবে। 


রোববার  (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে অলোকার মোড়ে একটি রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন অ্যাড. মোর্তজা শাকিল।  


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাজশাহী সিটি করপোরেশন একক পরিকল্পনায় এবং স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত না করে এই রাস্তায় ফ্লাইওভার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এলাকায় রাস্তার দুই পাশে প্রায় ১ হাজারের বেশি  দোকান আছে। যেখানে বাণিজ্যিক মার্কেটসহ মোবাইল মার্কেট ও বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক আছে। ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫ হাজারের বেশি পরিবার জড়িত। বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়।


সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতির কারণও উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, নিউ মার্কেট, মোবাইল মার্কেটসহ আশেপাশের মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই ব্যস্ততম রাস্তায় এই ফ্লাইওভার নামানোর জন্য রাস্তার দুইপাশে যথেষ্ট জায়গা না থাকায় প্রতিদিন এই রাস্তায় চলাচলরত প্রায় লক্ষাধিক যানবাহন চলাচলে বাধাগ্রস্থ হবে। ফ্লাইওভারের কারণে রাস্তার দুইপাশে অপর্যাপ্ত জায়গা থাকায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাবে। রাস্তার আশেপাশে অসংখ্য আবাসিক ভবন থাকায় যেকোন দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা ব্যাহত হবে। অগ্নি নির্বাপক গাড়ি/ দমকল বাহিনী তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে না। যার ফলে এখানে আকস্মিক দুর্ঘটনায় ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন হবে।


রাস্তার দুইপাশে থাকা বৈদ্যুতিক (খুঁটি এবং তার) স্থানান্তরিত করলে পার্শ্বে অবস্থিত বাণিজ্যিক/ আবাসিক ভবনগুলি হুমকির মুখে পরবে। এখানে উল্লেখ্য যে, রাস্তার উভয় পার্শ্বে এমন অনেক বৈদ্যুতিক খুঁটি আছে যেগুলো যান চলাচল বা পথচারী চলাচলে বর্তমান অবস্থায় অনেক ব্যাঘাত সৃষ্টি করে যা রাস্তা সংকুচিত হলে পরবর্তীতে তা আরো ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করবে। ফ্লাইওভার এর উভয় পার্শ্বে অপর্যাপ্ত রাষ্ট্র না থাকায় ফুটপাতকে যদি ছোট করে পথচারীদের চলাচলের রাস্তা বানানো হয়। তাহলে ফুটপাত দিয়ে চলাচলরত পথচারীর জীবনের হুমকি হতে পারে।


এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক ভবন (নিউ মার্কেট) তার নিজস্ব সৌন্দর্য্য ও চিরস্থায়ী ভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। উভয় পার্শ্বে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় যানজট আরো বৃদ্ধি পাবে। বাণিজ্যিক রাস্তাটি অপর্যাপ্ত আলো বাতাস /অন্ধকারাচ্ছন্ন হলে জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা/প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এই সড়কে ফ্লাইওভার নির্মিত হলে এলাকার যে সমস্ত ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে তারা অনিবার্য ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ রাস্তা সংকুচিত হবার ফলে মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোর সামনে কোন প্রকার পার্কিং সুবিধা থাকবেনা। ফলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে কামরুজ্জামান চত্বর থেকে অলকার মোড় পর্যন্ত জনাকীর্ণ বাণিজ্যিক এই সড়ক অংশে ফ্লাইওভার নির্মাণের আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। ব্যাপকভাবে জনভোগান্তি তৈরি হবে এমন কোন প্রকল্প নির্মাণ হোক এলাকাবাসী তা চায় না।


বর্তমানে রাস্তার প্রশস্ত আছে উভয়প্রাপ্ত মিলে আনুমানিক ৪৫ ফুট। এই ৪৫ ফুট প্রশস্থ রাস্তার উপর ২৮ ফুট প্রশস্থ ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে অবশিষ্ট রাস্তার প্রশস্থতা একেক পারে থাকবে প্রায় ৯ ফুট করে। যা দিয়ে কোন প্রকার যান্ত্রিক যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করা সম্ভব নয় এবং এটা নির্মিত হলে এই অঞ্চলে যানজট স্থায়ী ও ভয়াবহ রুপ ধারন করবে। 


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, মইনুদ্দিন চৌধুরী আনু, আব্দুল মোমিন কাজল, আব্দুল ওয়াহাব, এনতেখাব আলম বাবর, গোলাম রাব্বানীসহ এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।