বরেন্দ্রে নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়াতে ‘সাওয়াব’ প্রকল্পের উদ্বোধন
নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘নিরাপদ পানির টেকসই প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি (সাওয়াব)’ প্রকল্প। খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানীর টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল সরবরাহ উন্নত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের (টিসিসিএফ) আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডাসকো ফাউন্ডেশন ও কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে নগরীর একটি তারকা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত জিলেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক আবু সায়েদ মো. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিঙের উপদেষ্টা মন্টু কুমার বিশ্বাস, কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনউল্লাহ চৌধুরী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ড. তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কর্মশালা সঞ্চালনা করেন ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকরামুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান জায়তুনা খাতুন।
সাওয়াব প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চল ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। তিন বছর মেয়াদী সাওয়াব প্রকল্পটি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে কাজ করবে। যার লক্ষ্য উন্নত ও জলবায়ু-সহনশীল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে উপকৃত করা।
প্রকল্পটিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সৌর ও বৈদ্যুতিক সাবমারসিবল পাম্প, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, পুকুর পুনঃখনন, স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্যবিধি প্রচার এবং পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থানীয় মালিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনউল্লাহ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ পানির অধিকার কোনো বিশেষ সুবিধা নয়- এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। কোকা-কোলায়, আমাদের দায়বদ্ধতা আমাদের উৎপাদিত পানীয়ের চেয়েও অনেক বেশি। আমরা যে সেবা দিই, তাদের প্রতিদান দেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা সর্বদাই আমাদের পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অঙ্গীকার অর্থবহ ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত হয়। এই উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার মুহূর্তে আমরা আত্মবিশ্বাসী, একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা টেকসই অগ্রগতি অব্যাহত রাখব এবং আমাদের সেবাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী পরিবর্তন আনব।
বক্তারা বরেন্দ্র অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পানি সংকট মোকাবেলায় প্রকল্পের লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সম্মিলিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।