চাঁপাইনবাবগঞ্জের জাহাঙ্গীর সেতুতে টোল আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন
তিন দশকের বেশি সময় পার হলেও টোল আদায় বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু ঘিরে এই অসন্তোষ এখন রূপ নিয়েছে সংগঠিত প্রতিবাদে। স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, নির্মাণ ব্যয় বহু আগেই উঠে যাওয়ার পরও টোল আদায় অব্যাহত রাখা জনস্বার্থের পরিপন্থী।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জেলা শহরের রেহাইচরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক অধিকার আদায় কমিটি। এতে অংশ নেন, পরিবহন শ্রমিক ও মালিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইনজীবী, দলিল লেখকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কর্মসূচিতে উপস্থিতদের দাবি, টোলের এই দীর্ঘস্থায়ী প্রথা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে সেতুটি চালুর পর থেকে টানা ৩৩ বছর ধরে টোল আদায় করা হচ্ছে। অথচ দেশে অনেক সেতুতেই নির্দিষ্ট সময় পর টোল প্রত্যাহারের নজির রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই সেতুর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন? তারা মনে করেন, স্বচ্ছ কোনো হিসাব বা সময়সীমা না থাকায় টোল আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, এর আগেও একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তোলা হলেও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের হতাশা আরও বেড়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, আগামী বছরেও যদি টোল আদায় চালু রাখা হয়, তাহলে সড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের মতে, এ আন্দোলন শুধু একটি সেতুর টোল ইস্যু নয়, এটি ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রশ্ন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরে আলম সিদ্দিকী আসাদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রাইহানুল ইসলাম লুনা, ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আলমগীর কবির, জেলা ট্রাক টাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ নাজমুল হাসান মনিসহ অন্যরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি টোল আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় এটি জনঅসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়, যেখানে একটি অবকাঠামো ঘিরে জনদাবি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে রূপ নিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বাড়তে থাকা চাপের মুখে কী পদক্ষেপ নেয়, নাকি আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয়।
মানববন্ধন চলার সময় পাশে চায়ের দোকানে থাকা কয়েকজন শিক্ষক বলেন এই সেতু থেকে সরকার অনেক টাকা রাজস্ব আয় করে থাকেন, কাজেই সরকারি সিধান্ত কি হবে সেটা সরকারী বলতে পারবেন।