শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিতে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ মে ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ মে ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিতে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ

শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে রাজশাহী অঞ্চলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ বিঘ্নিত হয়। প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হয় কৃষকদের। কৃষিতে এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ। পানি সংরক্ষণ করা হলে রাজশাহী অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ এর উপকার পাবে।   


ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় রাজবাড়ীর পাংশায় হতে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ। এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যাবে বর্ষার বিপুল জলরাশি। ব্যারেজ হলে আমুল বদলে যাবে কৃষকদের ভাগ্য। এমনটায় বলছে কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত এ পানি ব্যবস্থাপনায় পদ্মার শাখা নদীগুলোর নাব্যতা ফিরে আসবে। লবণাক্ততা রোধ করে রক্ষা করা যাবে সুন্দরবনকে। এছাড়া রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির যোগানও নিরবচ্ছিন্ন হবে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে শুধু আঞ্চলিক নয় জাতীয় অর্থনীতিরও ‘গেম চেঞ্জার’ হতে যাচ্ছে এই প্রকল্প। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমরা এখন গ্রাউন্ড ওয়াটারের উপর অনেকটা বেশি নির্ভরশীল। সেই গ্রাউন্ড ওয়াটারটা না তুলে তখন আমরা সারফেস ওয়াটারটা ব্যবহার করে ইরিগেশনটা দিতে পারব। রুপপুর পাওয়ার প্লান্ট হইছে তাদের কুলিং পারপাসে যে ওয়াটারটা প্রয়োজন সে অর্ডারটাও আমরা সাফিশিয়েন্ট পাবো। আমাদের এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের যে দাবি দাওয়া দীর্ঘদিনের আমরা যেটা নিয়ে আন্দোলন করেছে সেটা অবশ্যই সাকসেসফুল হবে।


নির্বাচনের আগে রাজশাহীর জনসভা থেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি ও পানি সমস্যার সমাধানে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “ধানের সরকার গঠন করলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজে হাত দিতে চাই। পদ্মা ব্যারেজ যদি ইনশাল্লাহ আমরা তৈরি করতে পারি, এলাকার মানুষের পুরা এই এলাকার মানুষের উপকার হবে রাজশাহী, নাটোর, চাপাইয়ের মানুষেরা। ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারাজের কাজে হাত দিব।”


রাজশাহীর কৃষকরা বলছেন, পানির অভাবে ধান চাষ করা যায় না। এজন্য বিকল্প চাষে ঝুঁকতে হচ্ছে। পানি পাওয়া গেলে আমাদের জন্য ভালো হবে। 


গোদাগাড়ীর উপজেলার বড়গাছি গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, পদ্মাতে যদি পানি ঠিক থাকে তাহলে ডিপটিউবওয়েলে পানির সমস্যা হবে না। তখন চাষাবাদেও সমস্যা হবে না। বিশেষ করে আমরা যারা চরে যারা চাষাবাদ করছি তারা বেশি সুফল পাবো।  


বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বাছির বলেন, পদ্মায় শীতকাল থেকে পানি চলে যায়। সে সময় আমাদের চাষাবাদে সমস্যা হয়। চৈত্র মাসে পানির জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যায় থাকতে হয়। পানিতে ধরে রাখতে পারলে বদিক দিয়ে সুবিধা থাকবে। এছাড়াও চরে মানুষের যাওয়া আসা বেশ সুবিধা পাওয়া যাবে। 


নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি ধরে রাখা হলে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পানির স্তর তুলনামূলক উঁচু রাখা সম্ভব হবে। ব্যারাজে সংরক্ষিত পানি বিভিন্ন নদীপথে ডাইভার্ট করা হবে, যার লক্ষ্য শুকনা মৌসুমে এসব নদীতে পানিপ্রবাহ সচল রাখা। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট কমানো।


পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০০ বিলিয়ন লিটার পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। প্রাণ ফিরে পাবে সেচ প্রকল্পগুলোও। পদ্মা ব্যারেজ ও গড়াই অফ-টেক স্ট্রাকচারে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে। বছরে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদের ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এছাড়া গড়াই ও বড়াল নদ পুনরুজ্জীবিত করতে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার খনন করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এ ব্যারাজ দিয়ে ন্যুনতম ৫৭০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড পানি ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।