শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

বদলগাছীতে রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণ, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা

বদলগাছী প্রতিনিধি ১৫ মে ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বদলগাছী প্রতিনিধি ১৫ মে ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ন
বদলগাছীতে রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণ, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বলরামপুর গ্রামে কয়েক দশকের ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণে বাধা দিলে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে একই গ্রামের এক নারী। 


স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের ১১টি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ বন্ধ করে ইটের দেয়াল তৈরি এবং বক্স খনন করে পুরো রাস্তা ভেঙে দিলেও ও প্রশাসনের কাছে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পায়নি গ্রামবাসি। যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ হওয়ায় প্রতিবাদ করে উল্টো গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।


গেল ২২ এপ্রিল রোজিনা বেগম নওগাঁর আদালতে মামলার এজাহার জমা দেন। আদালত বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার নিতে নির্দেশ দেয়। এবং গেল ৯ মে বদলগাছী থানায় দ্রুতবিচার আইন ২০০২ এর ৪ (১) ধারায় এজাহার গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় বলরামপুর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


সরজমিনে বলরামপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ১১টিরও বেশি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে এবং উত্তর মাঠে চলাচলের একমাত্র পথ এটি। কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও মসজিদে যাতায়াতের জন্য এটিই ছিল গ্রামের ১১ টি পরিবারসহ গ্রামবাসীর প্রধান পথ। কিন্তু হঠাৎ করেই রাস্তার মাঝখানে ইট-সিমেন্টের প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে এবং পুরো রাস্তা প্রাচীর নির্মাণের বক্স খনন করে রাস্তা ভেঙে দেয় রোজিনা বেগম এবং তার পরিবার। এর পর লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাঠে মাঠে পাকা ধান। বোরো ধান ঘরে তুলতে গ্রামবাসী গত ২০ এপ্রিল দুই ফুট মাটি কেটে রাস্তাটি পুনরায় ভ্যান চলাচলের সুবিধা করে বেঁধে দেয়।


পুনরায় রাস্তায় মাটি দেওয়ার অপরাধে নওগাঁ কোর্টে ১৯ জন গ্রামবাসীর নাম উল্লেখ করে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করে রোজিনা বেগম। গত সোমবার ছয়জন আসামি আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর পর থেকেই গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


তানজিলা নামে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে রাস্তা দিয়ে আমরা ৪০-৫০ বছর চলাচল করছি, আজ সেখানে দেয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করে ছয়জন মানুষ জেলখানায়। তাদের কি অপরাধ ছিলো।


ফারুক নামে এক ভুক্তভোগী বলেন,আমরা ১১টি পরিবার আমাদের বাড়িতে এখন ভ্যান, ধান মাড়াইয়ের মেশিন এসব আনতে পারছি না প্রাচীর দেওয়ার জন্য। কারও কাছে কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা। উল্টো আমাদের নামে মামলা করে জেল খাটানো হচ্ছে।


মাসুদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন,আমরা এই পথ ধরে সবাই চলাচল করি। এই রাস্তায় দুই ফিট জায়গা ছেড়ে কাজ করার কথা। কিন্তু এখন একফিট জায়গা না ছেড়ে রোজিনা ও তার পরিবার ইটের দেওয়াল নির্মাণ করেছে। এখন ভ্যানগাড়ি পাকা রাস্তায় রেখে হেঁটে বাড়ীতে আসতে হচ্ছে।


মামলার বাদী রোজিনা বেগম জানান, প্রাচীর নির্মাণ করা জায়গাটি তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। তাই আইনগত অধিকার থেকেই সেখানে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। দুই ফুট জায়গা রাস্তায় ছাড়ার কথা ছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামবাসী তিন ফিট জায়গা চায় এখন। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন হুমকি দিয়েছে, আবার প্রাচীর  নির্মাণের সময় তারা আমার পরিবারে লোকজনকে  মারধর করছে এই জন্য আমি দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করছি।


বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু জানান, রাস্তাটি ১১ টি পরিবারসহ গ্রামের মানুষের একমাত্র চলার পথ। এ নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে রাস্তায় মাটিকাটা হয়েছিলো। এখন শুনছি রোজিনা নামে এক নারী মামলা করেছে ছয়জন জেলে আছে। তবে এটি গ্রামে বসে মিটানো যেত।


এ বিষয়ে বদলগাছী থানা অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন বাদী কোর্টে মামলা করেছে। তদন্ত করে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।