সোমবার, মে ১৮, ২০২৬

বছরের পর বছর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিং, অবশেষে দুই বোনের আত্মহত্যা

সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬ ০৯:৪৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬ ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
বছরের পর বছর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিং, অবশেষে দুই বোনের আত্মহত্যা
পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। ফাইল ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভারতের রাজস্থানের যোধপুরের গ্রামীণ এলাকায় দুই বোনের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে প্রথমে বড় বোন এবং এর প্রায় দুই মাস পর পুলিশের কাছে বারবার গিয়েও বিচার না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ছোট বোন। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা এবং আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।


গত ১১ এপ্রিল ছোট বোনের করা পুলিশি অভিযোগ অনুযায়ী, মহিপাল নামের স্থানীয় এক ই-মিত্র সেবা কেন্দ্রের পরিচালক তার বড় বোনকে ফাঁদে ফেলেন। মহিপাল গোপনে ওই তরুণীর আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। এই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে মহিপাল এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘ চার বছর ধরে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন এবং ব্ল্যাকমেইল করে অনবরত টাকা আদায় করতে থাকেন। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ বড় বোন আত্মহত্যা করেন।


ছোট বোন তার অভিযোগে শিবরাজ, গোপাল, বিজারাম, দিনেশ, মনোজ ও পুখরাজসহ মোট আট জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির অভিযোগ এনেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হলেও পরবর্তী এক মাসে পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ছোট বোন পুলিশকে সতর্কও করেছিলেন, বিচার না পেলে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেবেন।


বড় বোনের মৃত্যুর পর নারকীয় এই নির্যাতন শেষ হয়নি। ছোট বোনের অভিযোগ ছিল, বড় বোনের আত্মহত্যার পর আসামিরা তার দিকে নজর দেয়। তার বড় বোনের ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা ছোট বোনকেও যৌন নিপীড়ন করতে শুরু করে। এমনকি এফআইআর দায়ের করার পরও আসামিরা তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিতো এবং অহংকার করে বলতো যে পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না।


অবশেষে নিজের আকুতি প্রশাসনের কানে পৌঁছাতে শুক্রবার ওই তরুণী একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে পড়েন এবং আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এরপর তিনি বিষপান করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।


এই ঘটনায় স্থানীয় রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নিহত তরুণীর মরদেহ যে এমডিএম হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল, তার বাইরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। প্রাথমিক অচলাবস্থার পর পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্তের জন্য সম্মতি দিয়েছেন।


মারওয়ার রাজপুত সোসাইটির সভাপতি হনুমান সিং খাংটা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ পুরো তদন্তজুড়ে আসামিদের আড়াল করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। পুলিশের এই ব্যর্থতার কারণেই শেষ পর্যন্ত দুটি প্রাণ ঝরে গেলো। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে সব আসামির গ্রেফতার এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


নিহতদের বাবা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


যোধপুরের পুলিশ সুপার পিডি নিত্যা জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত মহিপালসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া অন্য কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় তদন্ত করা হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন