সোমবার, মে ১৮, ২০২৬

শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে হামলা

সোনার দেশ ১৭ মে ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৭ মে ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ন
শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে হামলা

বিভ্রান্তি নয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। মাজার জিয়ারত করতে আসা মানুষ হামলার শিকার হয়। অনেকেই হামলাকারিদের মারপিটে আহত হয়ে দিগবিদিক পালাতে থাকে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 


চব্বিশের ৫ অগাস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাজার ও সুফি দরগায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলা হয়েছে এমন ধারণাও করা হচ্ছে। তবে হামলার ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবেই ঘটনাকে অন্যরূপ দিতে পরিকল্পিত উপায়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওই ঘটনার পর থানায় মামলা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। 


মাজারে হামলার ঘটনায় পুলিশও পরস্পর বিরুদ্ধ কথা বলছে- যা সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। শাহ আলী থানার ওসি বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “ঘটনা হচ্ছে রওজার পূর্ব পাশে যেখানে শুক্রবারে নামাজ পড়ে, সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু মহিলা ও পুরুষ মাদুর বিছিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসেছিল। তখন মাজারের জিয়ারতকারীরাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়।” আবার উর্ধতন এ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমেকে জানিয়েছেন, পুলিশ সেখানে ছিলই না। কোনো পক্ষ হামলার জন্য জামাত-শিবিরকে দায়ি করেছে। জামাতের পক্ষে থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। 


তবে ঘটনাটি ঘটেছে- অর্থা’ শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে হামলা হয়েছে, ভাঙ্চুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। হামলার কারণ অবশ্যই আছে। তা কেবল তদন্ত করেই বলা যায়- ঘটনা কেন, কীভাবে বা কারা সংঘটিত করেছে। ঘটনা নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি কিংবা ঘটনাকে অন্য খাতে না করে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়। যে বা যারাই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন তারা অপরাধ করেছে। আর অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই পুলিশের কাজ। সেটিই দেশের মানুষের কাছে প্রত্যাশিত। রাজনীতির মারপ্যাচে পড়ে যাতে অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়।