খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ
চরবাসীর দাবি বিবেচনার দাবি রাখে
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ও আলাতুলি ইউনিয়নের মানুষ খেয়াঘাট ইজারার বিরুদ্ধে চরবাসীর অবস্থান দীর্ঘ দিনের। প্রতিবাদ-আন্দোলনের পরেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয় নি। যদিও দেড় বছর ধরে চরের মানুষ ঘাটে টাকা ছাড়াই পারাপার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চরবাসীদের কাছে ইদের আনন্দের মতো। এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্যমতে, চরবাসী জেনেছেন যে, খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু চরবাসী নিশ্চিত হতে চায় যে, খেয়াঘাটে আর কখনো যাতে করে ইজারা প্রদান করা না হয়। এখন চরবাসী দাবি জানাচ্ছে যে, খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হোক। ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে আবারও সোচ্চার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর খোলা চিঠি দিয়ে খেয়াঘাটের ইজারা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চরের ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের জন্য এটি ন্যায্য দাবি। চরবাসীর অভিযোগ- আষাড়িয়াদহের বাসিন্দারা জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা খেয়াঘাটটি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ঘাট ইজারা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা চরের মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরের মানুষ নিজেদের অর্থ, শ্রম ও কষ্ট দিয়ে নৌকা পরিচালনা করে এবং নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তা নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখে। তারপরও প্রতিদিন পারাপারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ও অন্যায্য। চিঠিতে প্রশ্ন রাখা হয়, চরবাসী নিজেরাই নৌকা দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। নিজেরাই রাস্তা তৈরি করে, সেখানে কেন সাধারণ মানুষকে ঘাটে টাকা দিতে হবে?
চরবাসীর দাবি খুবই সঙ্গত এই কারণে যে, খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে যে রাজস্ব আয় হয় তা ওই চরবাসীর কোনো উপকারে তো আসেই না বরং তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। খেয়াঘাটের নৌকা ও সংস্কারের কাজ চরবাসী নিজেরাই করে থাকেন- তা হলে কেন তারা ইজারাদারের চাপিয়ে দেয়া তাবেদারি মানবেন? চরবাসী নিজেদের সেবা নিজেরাই নির্বাহ করতে সক্ষম হলে কেনই বা তাদের অন্যের মুখোমুখি করা হবে? বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।