পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা ও গণভোট বাস্তবায়নে রাজশাহীতে ১১ দলের সমাবেশ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আগামী ১৬ মে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এ কর্মসূচি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জোটটি।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৬ মে বিকেল ৩টায় শুরু হবে এ সমাবেশ। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নানামুখী সংকটে জর্জরিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, কৃষকের দুর্দশা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, পরিবহন সমস্যাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে তিনটি মৌলিক দাবি তুলে ধরেন—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা। তারা বলেন, গণতন্ত্রে জনগণই মূল শক্তি। জনগণের মতামত ও রায়কে সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পানির ন্যায্য বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের মাধ্যমে আহ্বান জানান, ১৬ মে’র সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দাবি আদায়ের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, মহানগর সেক্রেটারি ডা. ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মুফতি জুবায়ের হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।