চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে নির্মম নির্যাতন
অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. সাকির আলীকে গ্রেফতার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পিটিআই আল হিদায়া হিফজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সাকির আলী একই মাদ্রাসার শিক্ষক। তথ্য অনুযায়ী ১৩ মে সকালে ক্লাস চলাকালে শিশু শিক্ষার্থী নুর ই সাফিকে কাঠের স্কেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় এবং শূন্যে তুলে মেঝেতে আছড়ে ফেলে মাথায় আঘাত করা হয়।
আইন লঙ্ঘন করে হরহামেশাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনে ঘটনা ঘটেই চলেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত, মানসিক চাপ এবং যৌন বা অন্য কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক আচরণের ঘটনা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অথচ বাংলাদেশে শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি সম্পূর্ণরূপে বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন রোধে এবং এর প্রতিকারের জন্য সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- তারপরেও থেমে নেই নির্যাতন।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) ২০২৩ সালের মে মাসে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে পরিবারে ৫৮ শতাংশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৬ শতাংশ এবং খেলার মাঠে ৬৫ শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।
প্ল্যাটফর্মের বাংলাদেশ নিয়ে ২০২৪ সালের সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১১’ জারি করা হয়। তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেয়ার ঘটনা অহরহই ঘটছে। এজন্য শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে নীতিমালাকে আইনে রূপ দেয়া দরকার। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশে বাসা-বাড়ি, ডে-কেয়ার সেন্টার ও শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে এখনো শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ হয়নি।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধ অবশ্যই করতে হবে। তা না হলে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানসিক বিষণ্নতা তৈরি হবে। এটা শুধু শিশুর জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। শিশুর বিকাশ না হলে দেশ সুস্থ জাতি পাবে না। শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি দৃশ্যমান হতে হবে, সমাজে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।