শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ মে ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ মে ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের

সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল’ দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখারও দাবি জানানো হয়েছে।


শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী।


শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মো. ছালজার রহমান এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান।


অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১১-২০ ফোরামের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।


লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান বলেন, গত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছেছে।


২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালে কর্মচারীদের সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রয়োজন।


সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার পে-কমিশন গঠন করে আশা দিলেও গেজেট প্রকাশ না করে ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বললেও বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।


তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।


দাবিগুলো হলো-

১:৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫ হাজার টাকায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্ত আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা ও সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ‘বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল’-এর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাস্তবায়ন করতে হবে।


২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল করতে হবে।


ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।


সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।


উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে নং-অম/অবি (বাস্ত-৪)/বিবিধ-২০ (উঃস্কেঃ/০৭/৪৭, তারিখ-২৪-০৩-২০০৮ খ্রি.) যোগে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী উক্ত আদেশ বাতিল করতে হবে।


বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্র্নিধারণ এবং সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।


একই সঙ্গে সচিবালয়ের মতো সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের মাধ্যমে বেতন ও পদ বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়। 


সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া, বাংলাদেশ ১৭-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতির সমন্বয়ক ও সভাপতি মো. রফিকুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন ।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ