শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকা কাটিংভিত্তিক, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ জুন ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ জুন ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকা কাটিংভিত্তিক, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নতুন সরকারের ১০০ দিনের অপরাধ চিত্র নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন কেবল পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে টিআইবির নিজস্ব কোনো তদন্ত নেই। সেহেতু এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। 


সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার দেওয়া অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


টিআইবির প্রতিবেদনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। প্রকৃত অপরাধচিত্র জানতে হলে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য দেখতে হবে। জেলা থেকে সংগৃহীত তথ্যই প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে।


সম্প্রতি টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।


এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। তারা নিজেরা কোনো ঘটনা তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা বিবেচনা না করে এমন প্রতিবেদন দেওয়া ঠিক নয়। তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে এবং এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। 


অনুষ্ঠানে রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ডিএনএ টেস্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল, দৌলতদিয়া ঘাটে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী হত্যা মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা ও একটি করে সনদ পেয়েছেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করেছি। পুলিশ কতটা জনবান্ধব হয়েছে, কতটা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে, তার স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এতে তারা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে।


তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে তাদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


একটি মামলার তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তারা ছয় হাজার টাকা পান এটি যথেষ্ট কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ অর্থ পর্যাপ্ত নয়। জাতীয় সামর্থ্যের ভিত্তিতেই কাজ করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে এ খাতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ