ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন্দলের জেরে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আহত
ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালু নিয়ে আধিপত্য ও বিএনপির গ্রুপিং নিয়ে দলীয় কোন্দলে পূর্ব বিরোধের জেরে গুলিবর্ষন ও এক পক্ষের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক খাঁ। বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ‘বিপি’ ও ‘এনআর-২০২১’ লেখা দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধারনা করা হচ্ছে গুলির খোসাগুলো ২০২৪ এর ৫ আগস্ট থানা লুটের অস্ত্র ও গোলাবারুদ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে থানা লুটের অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করে এই হামলা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হলেও পুলিশের ভাষ্য ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হবে।
আহত আব্দুল খালেক খাঁ অভিযোগ করে বলেন, দলীয় পূর্ব শত্রুতার জেরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে কাজ করাকে কেন্দ্র করে আব্দুল খালেক খাঁর সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক শাহানুজ্জামান সেনা ও আলমের বিরোধের সৃষ্টি হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, শাহানুজ্জামান সেনা ও তার সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র, পাইপ ও লোহার রড নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুল খালেক খাঁকে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। আহত খালেক খাঁ শয্যাগত অবস্থায় সেনা, আলম, আজিজের নাম হামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্ত আলমকে কোমর থেকে পিস্তল বের করতে দেখা যায় এবং সেনাকে তার পিছেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেওয়ায় খালেক খাঁর উপর ধানের শীষের সমর্থক সেনা ও আলম আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। বুধবার রাতে সেসব বিষয় নিয়ে রূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খালেক কথা বলার সময় সেই ক্ষিপ্ততার অংশ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ খালেকের উপরে হামলা ও গুলিবর্ষণ করার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে রাতেই র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, পাবনা র্যাবের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ওহেদুজ্জামান, সহ আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ।
ঘটনাস্থল থেকে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি গুলির খোসায় ‘বিপি’ ও ‘এনআর-২০২১’ লেখা রয়েছে। এগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত গুলি বলা হলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য খোসাগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করছে অস্ত্র ও গুলির বিষয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, এ ঘটনায় এখনো ঈশ্বরদী থানায় কোন মামলা হয়নি। আহত খালেক খাঁ রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সে কারনে মামলা দায়ের করতে দেরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।