দুই মাস ছিলেন নিখোঁজ, নো-ম্যানস ল্যান্ডে দেখা মিলল সেই ষষ্ঠীচন্দ্র বর্মণের
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের শিকার বৃদ্ধ ষষ্ঠীচন্দ্র বর্মণ বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে বিজিবি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
ষষ্ঠীচন্দ্র বর্মণের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামে। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে। সর্বশেষ প্রায় দুই মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ষষ্ঠীচন্দ্র বর্মণ পেশায় একজন মৎস্যজীবী ও কৃষক ছিলেন। এক ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা ষষ্ঠীচন্দ্র বর্মণের সব সন্তানের বিয়ে হয়েছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
ষষ্ঠীচন্দ্র বর্মণের ভাতিজা গোপালচন্দ্র বর্মণ জানান, দারিদ্র্য ও পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ভবঘুরে হয়ে পড়েন। তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে ভাঙাচোরা বাড়িতেই থাকেন। একমাত্র ছেলে বিয়ের পর আলাদা হয়ে গেছেন। তিনিও কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে পরিবারের দাবি।
গোপাল বর্মণ বলেন, সর্বশেষ প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে কুড়িগ্রামে তার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও তার তেমন খোঁজখবর রাখতেন না। কীভাবে তিনি জামালপুর সীমান্তে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে পরিবার কিছু জানে না। তবে গোপাল বর্মণের দাবি, ষষ্ঠী বর্মণ ভারতে যাননি।
বিএসএফ তাকে কীভাবে পেয়েছে, সেটিও পরিবারের জানা নেই। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ষষ্ঠী বর্মণের কথাবার্তা এলোমেলো। তবে তার সন্ধান মেলার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মণ জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জানা নেই। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমুল হাছান বলেন, ষষ্ঠী বর্মণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা জামালপুরে পৌঁছালে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে বুধবার সকালে জামালপুর জেলার কামালপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণকে বাংলাদেশে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেন বিএসএফ সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রেখে চলে যান। বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে তাকে থানা হেফাজতে পাঠানো হয়।