পার্বতীপুরের মেয়ে সোমা ঢাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হরালো
দেশের উত্তরাঞ্চলের রেলওয়ে জংশন খ্যাত দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে শহরের সাহেবপাড়া কলোনীর মেয়ে সোমা। চাকুরী সূত্রে বসবাস করতো রাজধানী ঢাকায়। আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঈদ করতে পার্বতীপুরে এসেছিল। সেখান থেকে ঢাকা ফিরেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারালো সে। ছিনতাইকারীর হাত থেকে ব্যাগ বাঁচাতে গিয়ে জীবনটাই হারিয়ে ফেললো সোমা। রেখে গেলো তার অনার্স পড়ুয়া মা হারা একমাত্র মেয়ে নওমীকে।
জানা গেছে,ঈদুল আজহা ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন সোহেলী ইসলাম সোমা (৪২)।
পার্বতীপুর শহরের সাহেবপাড়া রেলওয়ে কলোনির অধিবাসী প্রয়াত বুলবুল ইসলামের কন্যা সোমা গত ৬ জুন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরদিন ভোরে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাসায় ফেরার পথে রাজধানী ঢাকার সরোয়ারর্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের রাস্তায় মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাগে টান দিলে তিনি রাস্তার পাশের ডিভাইডারে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে তিনি মারা যান।
জানা যায়, সোমার বাবা-মা আগেই মারা গেছেন। তার কোনো ভাই-বোনও নেই। একমাত্র কন্যা নওমী ইসলাম ঢাকার একটি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। মায়ের চাকরির আয়ে চলত তার লেখাপড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়। সোমাই ছিল মেয়েটার সবকিছু। সেই মাকে হারালো নওমী। এখন তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার ঈশ্বরদী পৌরসভাধীন পশ্চিম টেংরি মহল্লায় নানার বাড়িতে জানাজা শেষে সোমাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য যে,সোমার দাদা প্রয়াত নূরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার অধিবাসী হলেও রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকুরী সূত্রে পরিবার পরিজনদের নিয়ে বসবাস করতেন পার্বতীপুরে। সেই সুবাদে সোমার শৈশব কৈশোর কেটেছে পার্বতীপুরে। এখানকার স্কুল কলেজে সে লেখাপড়া করেছে। রয়েছে অনেক বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী। সোমার মৃত্যুর সংবাদে তাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।