রুশ দিবস উদযাপনে রূপপুরে জমকালো আয়োজন
রাশিয়ার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে জমকালো আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে রাশিয়ার জাতীয় দিবস ‘রুশ দিবস’। শুক্রবার রাতে রূপপুর প্রকল্পের আবাসন এলাকা গ্রীন সিটিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর রোসাটমের প্রকৌশল শাখা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি দেইরি। তিনি বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে আমাদের গৌরবময় জাতীয় দিবস উদযাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।’
অনুষ্ঠানে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক দল ‘সং অ্যান্ড ডান্স অ্যানসাম্বেল’-এর পরিবেশনায় ঘণ্টাব্যাপী নৃত্য ও সঙ্গীতের মাধ্যমে রুশ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জনগণের আবেগ-অনুভূতি তুলে ধরা হয়। এ আয়োজনে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রোসাটম প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন অংশীজন এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে এতমস্ত্রয়এক্সপোর্টের হেড অব কমিউনিকেশনস নিনা দেমেন্ত সোভাসহ রুশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অতিথিদের স্বাগত জানান এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে ‘কালিনকা’, ‘নাদভোদোই’, ‘কাতিউশা’, ‘গোরি, গোরি ইয়াসনো’, ‘কাদরিল’ এবং ‘রাশিয়া উইল রিমেইন রাশিয়া’সহ জনপ্রিয় রুশ গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
এছাড়া রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ম্যাজিক শো, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানসহ এসব আয়োজনে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রসঙ্গত: ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জুন রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রুশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ দিনটিকে আধুনিক রুশ ফেডারেশনের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের স্মারক হিসেবে উদযাপন করা হয়।