শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের পুশইনে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ জুন ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ জুন ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের পুশইনে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনে সহায়তা করার অভিযোগে সাত বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) রাতে সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিজিবি ও পুলিশ।


আটককৃতদের মধ্যে চারজনকে বিজিবি এবং তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে।


গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম মঙ্গলবার (১৬ জুন) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ওসি নূরে আলম বিজিবির বরাত দিয়ে জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সে সময় রোকনপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ওই সাত বাংলাদেশি ওই নারীকে বাংলাদেশে আসতে গোপনে সহায়তা করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পুশ-ইন প্রতিহত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে চার বাংলাদেশিকে আটক করেন।


পরবর্তীতে রাত ৪টার দিকে বিজিবি আটককৃতদের গোমস্তাপুর থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একই অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করে। ওসি জানান, আটককৃতদের নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে পরে বিস্তারিত জানানো হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


১৬ বিজিবির (নওগাঁ) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সোমবার রাতে ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আওতাধীন ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবি টহল দলের তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপে সেই পুশ-ইন প্রতিহত করা হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় সর্বমোট ৪৪ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই স্থানীয়দের সহযোগিতা ও বিজিবির তীব্র প্রতিরোধে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।


পরপর পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে কঠোর নজরদারি, সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং টহল ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষায় তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।


সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বিজিবি। এছাড়া রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যবহার করা হচ্ছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্ত এলাকাটি কাঁটাতারবিহীন (তারবেঁড়াবিহীন) হওয়ার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ বারবার এভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।


এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই দলে দুজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচজন শিশু ছিল।


তারও আগে, গত ৪ জুন ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির কঠোর বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা শূন্যরেখায় তিন দিন অবস্থান করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যায়।