সপ্তাহের ব্যবধানে দুই হত্যাকাণ্ডের পর পদ্মায় বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের গোলাগুলি
পদ্মা নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সপ্তাহের ব্যবধানে গুলিতে পর পর দুই হত্যাকাণ্ডের পর আবারো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে পদ্মা নদীতে গোলাগুলির শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাত দশটার দিকে ঈশ্বরদী থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নদী এলাকায় এসে জানতে পেরেছি নদীর বালুমহালের এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাকন বাহিনী ও বেলাল বাহিনীর মধ্যে গুলিবর্ষণে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সাহাবুল হোসেন (৪৫) ও এক সপ্তাহ আগে গত ৯ জুন আজিজুল হক নামে কাকন বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সীমান্ত পদ্মা নদীর রায়টা এলাকায় এর আগেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, পদ্মা নদীর এই তিন জেলার সীমান্ত এলাকায় বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাকন ও বেলাল বাহিনীর মধ্যে এর আগেও একাধিকবার গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
পদ্মা নদী পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, এর আগের ঘটনায় এমনিতেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পর পর দুটি হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা গুলির শব্দে এলাকার লোকজন ঘুম থেকে উঠে ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। গৃহবধু জহুরা বেগম বলেন, দিনের বেলায় যেমন তেমন, রাত হলেই আমরা ভয়ে থাকি- কখন গুলি হয়, কখন কেউ প্রাণ হারায় এই আশঙ্কায়। বৃহস্পতিবার রাতে গুলির শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে গেলে বাড়ির বাইরে এসে দেখি অনেকেই এদিক ওদিক ভয়ে ছোটাছুটি করছে।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে নদীতে নৌ-পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।