শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

২০০ ভরি স্বর্ণ ও ১২০০ ভরি রূপা চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ জুন ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ জুন ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন
২০০ ভরি স্বর্ণ ও ১২০০ ভরি রূপা চুরি

নগরীতে একটি জুয়েলার্সের দোকানে ২০০ ভরি স্বর্ণ ও ১২০০ ভরি রূপা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে ২৫ লাখ টাকাও লুট করে নিয়ে গেছে। প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক। তবে হিসেব করে দেখা গেছে, খুচরা বাজার দর চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রূপার দাম ৫ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা।   


শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। নগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় অবস্থিত দোকানের নাম কারুশ্রী জুয়েলার্স। দুর্বৃত্তরা দোকানের দেওয়াল কেটে এই চুরি করে। 


এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহীর সব জুয়েলারির দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। শনিবার দুপুরের পর থেকে সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। 


পুলিশ জানিয়েছে, সাহেববাজার এলাকার আবাসিক স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্স পাশাপাশি অবস্থিত। দুর্বৃত্তরা প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের শোরুমের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দুটি শো-রুমের মাঝখানের লাগোয়া দেওয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সের ভেতরে ঢোকে। সেখান থেকে তারা সিন্দুক ও শো-কেসে থাকা সমস্ত স্বর্ণালংকার, চাঁদি এবং নগদ টাকা লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। তবে ওই সময় পাশের আফিয়া জুয়েলার্সে কোনো মালামাল ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


কারুশ্রী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী তূর্য সরকার জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের এলোমেলো অবস্থা দেখি। ভেতরে ঢুকে দেখি সিন্দুক খোলা ও শো-কেশে একটি স্বর্ণও নেই। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম এসেছিল। তারা তদন্ত করছে। 


তিনি বলেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা একেবারে নেই। এরপর চুরি হলো। আমার ব্যাংক ঋণ করা আছে। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম একেবারে। 


পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতি। দোকানের বিন্যাস ও ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই চক্রটি জানত বলেই মনে করা হচ্ছে।


চুরির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাজুস। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, প্রায় ২০০ ভরি সোনা, ১২০০ ভরি চাঁদি ও নগদ ২০ লাখ টাকার মতো চুরি করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর সকল জুয়েলার্স দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।


বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।