শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নাটোরে কালাম হত্যা মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ২৩ জুন ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ২৩ জুন ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন
নাটোরে কালাম হত্যা মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার

র‌্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্প ও র‌্যাব-৪, সিপিসি-২, সাভার ক্যাম্প এর যৌথ আভিযানিক দল মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৯:৫০ ঘটিকায় ঢাকার আশুলিয়া থানার ভাদাইল বাজার হতে নাটোরের অঅবুল কালাম হত্যা মামালার প্রধান দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত আসামী নাটোর সদর থানার কান্দিভিটা পূর্বপাড়ার মৃত হানিফের ছেলে হাফিজ (৩৫), ও হামজা (৩৬)। 

মামলার প্রাথমিক তদন্তকালে জানা যায় যে, চলতি বছরের ১৩ মার্চ অনুমান ৩ ঘটিকায় জামাল উদ্দিন (৫৬) এর ভাতিজা আবু কাউসার এর মোটরসাইকেল ফেলে দিলে মোটর সাইকেলের ক্ষতি করাকে কেন্দ্র করে আসামি  হাফিজ (৩৫) ও হামজা (৩৬) ছাড়াও অন্যান্য আসামিদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। সেই প্রেক্ষিতে আবু কাউসার (২৭) ও সজল খান (৪৫) ঘটনার বিষয়ে মিমাংসার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বলায় আসামিগণ বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করলে তারা চলে আসে। উক্ত ঘটনার জের ধরে ১৬ মার্চ সময় অনুমান রাত সাড়ে ১১ ঘটিকার নাটোর থানার কান্দিভিটা পূর্বপাড়া কদমতলা মোড়ে সজল খানকে আসামিগণ একা পেয়ে অতর্কিতভাবে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথারি মারধর করতে থাকে। সেইসময কান্দিভিটা বটতলা কবরস্থান জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে আবু কাউসার ও আবুল কালাম (৪৯)দ্বয় পথিমধ্যে উক্ত ঘটনা দেখতে পেয়ে তাকে বাঁচানোর জন্য

এগিয়ে এলে আসামিগণ তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল কালাম (৪৯) কে ৫ নং আসামি ইমন তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের বাম পাশের পাজরে ঘাঁ দিলে ঘটনাস্থলে সে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এছাড়া অন্য আসামীগণ আবু কাউসারকে ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং সজল খানকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথারি মারধর করে বাম হাত ভেঙ্গে ফেলে। তাদের চিৎকার শুনে জামাল উদ্দিনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী (৪৩) এগিয়ে আসলে তাকেও এলোপাথাড়ি মারপিট করে।

পরবর্তীতে উপস্থিত লোকদের সহায়তায় ভিকটিমদের মোটরসাইকেলযোগে নাটোর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল কালাম এর অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করিলে উক্ত হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত্রি অনুমান ১২.৪৫ ঘটিকার সময় ডিসিষ্ট আবুল কালাম মারা যায়। 

পরবর্তীতে ভিকটিম আবু কাউসার এর অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন এবং মোঃ সজল খান নাটোর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোঃ জামাল উদ্দিন আসামীদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় মামলা নং-২১, তারিখ-১৭/০৩/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ দায়ের করেন। মামলার পর পরই আসামীগন গা ঢাকা দেয়। গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখ রাত্রী ২১.৫০ ঘটিকায় আসামী  ১। মোঃ হাফিজ (৩৫) ও ২। মোঃ হামজা (৩৬)’কে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদ্বয় ঘটনার সহিত নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে স্বীকার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ হাফিজ (৩৫) ও ২। মোঃ হামজা (৩৬)’কে বিধি মোতাবেক আশুলিয়া থানার মাধ্যমে নাটোর থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।