নাচোলে সরকারি খাস পুকুর, রাস্তা ও ভূমিহীনের জমি দখল করে পাকা ইমারত নির্মাণের অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সরকারি খাস পুকুর, পাকা রাস্তা এবং এক ভূমিহীনের বিবাদমান জমি জবরদখল করে অবৈধভাবে পাকা ইমারত (ঘরবাড়ি) নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে; স্থাণীয় বাসিন্দা আখের আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নাচোল উপজেলা প্রশাসন একবার সেই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলেও; পরে তা পুনরায় শুরু করা হয়েছে। আর এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী ভূমিহীন জিল্লুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাচোল ইউনিয়নের ঝিকড়া মৌজার ৫৯৪ দাগের সরকারি খাস পুকুরের প্রায় ৩ শতক মাটি ভরাট করে, ৬০০ দাগের সরকারি পাকা রাস্তার কিছু অংশ দখল করে এবং একই মৌজার ৫৯৫ দাগে স্থানীয় জিল্লুর রহমানের ৩ শতক জমি জবরদখল করে ইট দিয়ে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন আখের আলী। বিষয়টি এলাকাবাসী প্রশাসনকে জানালে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলেও, পরবর্তীতে তা অমান্য করে পুনরায় নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল জানান,‘ ৫৯৫ দাগে আমার বাবার ভোগদখলীয় জমির ৩ শতক দখল করার পর আমরা আদালতে মামলা করি। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমরা দুই বার রায় পাই। পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে এবং স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) জারি আছে। কিন্তু সেই স্টে অর্ডারকে উপেক্ষা করে আখের ও তার লোকজন জোরপূর্বক পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে এবং বাধা দিলে উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে আখের, মুরসেদ ও ইসরাফিলের নামে জেলা জজ কোর্টে উচ্ছেদ মামলা করেন (মামলা নং- ৭২/২০, আপিল নং- ১০৫/২০২৫)। মামলার রায় জিল্লুর রহমানের পক্ষে আসলে আখের আলী জজ কোর্টে আপিল করেন। পরবর্তীতে সেই আপিলও আদালত খারিজ করে জিল্লুর রহমানের পক্ষেই রায় বহাল রাখেন। এরপর আখের আলী পুনরায় আপিল করে মামলাটি হাইকোর্টে (নং- ২৯/১৬/২৫) নিয়ে যান। হাইকোর্ট ৬ সপ্তাহের জন্য স্টে অর্ডার দেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমানের অভিযোগ, আখের আলী স্থানীয় বিএনপির নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তিনি ভূমিহীনদের সরকারি বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমি দখল করে নিজেদের নামে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
জিল্লুর রহমান ও স্থাণীয়রা জানান, ৩ বছর পূর্বেও সরকারি জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত আখের আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার ছেলে বিশালকে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করেছিলেন। ১৯৮৯-৯০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক একই মৌজার ১০ একর জমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দিলে, সেই জমিও আখের আলী জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। অথচ ওই বন্দোবস্তকৃত জমির দলিল হালনাগাদ রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা-খারিজ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের উপস্থিত থেকে ৬টি ভূমিহীন পরিবারকে ৫ একর জমি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, আখের আলী অতিশয় দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক। সরকারি পুকুর ভরাট ও সরকারি রাস্তা দখল করে বেশি দামে বিক্রি করাই তার মূল ব্যবসা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আখের আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কারো বা কোন সরকারি জমি দখল করিনি। বরং তার নিজের কেনা জমিতেই তিনি বাড়ি করছেন। তার কাগজপত্র সব রয়েছে।’
এদিকে, যোগাযোগ করা হলে নাচোল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া জানান,‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থাণীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।