শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

উপস্থিতি জটিলতার প্রতিবাদে রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে তালা, পরীক্ষা বর্জন

রাবি প্রতিবেদক ২৪ জুন ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ২৪ জুন ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
উপস্থিতি জটিলতার প্রতিবাদে রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে তালা, পরীক্ষা বর্জন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সেশনজট, কারিকুলাম প্রণয়নে বিলম্ব এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে বিভাগের অফিস রুম ও সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রমে অনিয়ম, ক্লাসের সময়সূচিতে অসামঞ্জস্য এবং উপস্থিতি গণনায় পরিবর্তনের কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর প্রতিবাদে নির্ধারিত পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, দীর্ঘ সেশনজট, কারিকুলাম প্রস্তুতে বিলম্ব এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতির কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনার্স শেষ করতে প্রায় পাঁচ বছর লেগেছে, এরপর কারিকুলাম না থাকায় মাস্টার্স শুরু হতেও ছয় মাস দেরি হয়েছে। ক্লাস অনিয়মিতভাবে নেওয়া হয়েছে এবং একটি ক্লাসে একাধিক উপস্থিতি গণনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ৬০ শতাংশ উপস্থিতির শর্ত পূরণ করতে পারেননি। ফলে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।

মেহেদী হাসান বাবর নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, করোনা-পরবর্তী একাডেমিক জট ও বিভাগীয় অব্যবস্থাপনার কারণে অনার্স ও মাস্টার্স কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মাস্টার্সের ক্লাস দেরিতে শুরু হওয়া এবং পূর্বঘোষণা ছাড়া অতিরিক্ত উপস্থিতি গণনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিসকলেজিয়েট হয়েছেন।

একই সেশনের শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় দুই বছর দেরিতে তাঁদের স্নাতক সম্পন্ন হয়েছে এবং ফল প্রকাশেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের বিলম্ব তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ক্লাসের সময়সূচির অসংগতি এবং একই ক্লাসে একাধিক উপস্থিতি গণনার কারণে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছেন। তাঁর ভাষায়, “একটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ক্লাসে দুইটা, তিনটা, চারটা উপস্থিতি দেওয়া হচ্ছে। গত ছয়-সাড়ে ছয় বছর যে অবিচার হয়েছে তখন বিধি কোথায় ছিল? এখন এসে শুধু নিয়ম দেখানো হচ্ছে।”

সার্বিক বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজি রবিউল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ৬০% উপস্থিতি না থাকায় কিছু শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের বাদ দিয়ে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরীক্ষা শুরুর আগেই তা বর্জন করে।

শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং এক ক্লাসে একাধিক উপস্থিত খাতা (অ্যাটেনডেন্স) দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রধান বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় অফিশিয়ালি তাদের জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখায় শিক্ষকেরা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।