শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

স্মৃতি আঁকড়ে অশ্রুসিক্ত বিদায় নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ জুন ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ জুন ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
স্মৃতি আঁকড়ে অশ্রুসিক্ত বিদায় নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজে

কেউ প্রিয় সহপাঠীকে জড়িয়ে ধরেছেন, কেউ শিক্ষকের হাত ধরে নীরবে চোখের জল মুছছেন। পরিচিত শ্রেণিকক্ষ, প্রিয় শিক্ষক আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতি আঁকড়ে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেন নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (২৪ জুন) সকালে কলেজ মিলনায়তনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতে অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও বিদায়ের মুহূর্ত যত ঘনিয়ে আসে, ততই ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। দীর্ঘদিনের চেনা প্রাঙ্গণ ও সহপাঠীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষকেরাও।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ময়মুর সুলতান শাহীন। তিনি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিদায় মানেই সম্পর্কের সমাপ্তি নয়; এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের সূচনা। উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে। কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গভর্নিং বডির সদস্য মামুনুর সরকার জেড ও কাজী নাজমুল ইসলাম এবং দাতা সদস্য মাহাবুব আলম সুমন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক প্রতিনিধি ফৌজিয়া আখতার জুঁই। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম।


বক্তারা পরীক্ষার্থীদের আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের জন্য মনোযোগ, আত্মবিশ্বাস ও সততার সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা কলেজজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা, স্নেহ, শাসন ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একসঙ্গে কাটানো আনন্দ-বেদনার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে অনেকের কণ্ঠ ধরে আসে।


সহপাঠীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভবিষ্যতেও বন্ধুত্ব অটুট রাখার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সফলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হলেও কলেজ প্রাঙ্গণে থেকে যায় অশ্রুসিক্ত চোখ, স্মৃতিময় মুহূর্ত এবং বিচ্ছেদের এক গভীর আবহ।