শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

গাজীপুরে ৫ পোশাক কারখানায় হামলা: তিন মামলায় আসামি ১,১০০

সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ জুন ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ জুন ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন
গাজীপুরে ৫ পোশাক কারখানায় হামলা: তিন মামলায় আসামি ১,১০০
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক কারখানার অফিস কক্ষ

গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে নারী শ্রমিক লিজা বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া শ্রমিক অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাঁচটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এসব ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। তিন মামলায় মোট ১ হাজার ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নিল, তা তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মৃত লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


গত বুধবার রাতে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন লিজা বেগম। পরে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে সহকর্মীরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শ্রমিকদের উসকানি দেয়। পরে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের করে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।


হামলার শিকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, কেওয়া এলাকার ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, সিআরসি অ্যাপারেলসহ মোট পাঁচটি পোশাক কারখানা। হামলাকারীরা কারখানার ভেতর ও বাইরে থাকা শ্রমিক পরিবহন বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পণ্যবাহী বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধা দিতে গেলে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।


হামলার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোর মধ্যে ট্রিপল অ্যাপারেলে হামলার ঘটনায় ৩০০ জন, এমএইচসি অ্যাপারেলে হামলার ঘটনায় ৫০০ জন এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলসে হামলার ঘটনায় আরো ৩০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।


ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।


এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাডমিন ব্যবস্থাপক মো. ফারুক মিয়া জানিয়েছেন, প্রায় ৫০০ জনের একটি দল কারখানায় হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে। হামলাকারীরা সাততলা ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে ভাঙচুর চালায়। এতে কম্পিউটার রুমসহ বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেছেন, “মামলার অধিকাংশ আসামিই দুষ্কৃতকারী। কিছু শ্রমিক থাকলেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর শ্রমিক নন। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।”


এদিকে, শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এই সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং শিল্পমালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী শ্রমিক লিজা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উসকানিদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি