সবজি-মসলার বাজারে ধস, হালখাতায়ও মন্দা-দুশ্চিন্তায় পুঠিয়ার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ এমন স্লোগান থাকলেও সেই কৃষকের মুখে আর হাসি নেই রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সবজি ও মসলা চাষিদের। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলায় উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। আর কৃষকের পকেটে টাকা না থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে।
ব্যবসায়ীদের ক্লোজিং হিসেবে জূন মাসে উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে ঐতিহ্যবাহী ‘হালখাতা’র আয়োজন করা হলেও বকেয়া তুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা ও চাষিদের উপস্থিতি কম হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে শনিবার (২৭ জুন) পুঠিয়ায়র বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায় সবজি যেমন আলু ২২ টাকা,পটল ১৫ টাকা , বেগুন ৩৫ টাকা লাউ ১৫ টাকা পিচ, চালকুমড়া ১৫ টাকা পিচ, কচু ৩৫ টাকা,ঝিঙ্গা ২০ টাকা , করলা ২৫ টাকা কেজি। মাঠে বাম্পার ফলন হলেও, দাম না থাকার কারণে বাজারে ধস।
উপজেলার বালিয়াঘাটির কৃষক জুয়েল বলেন জমি লিজ নিয়ে এক বিঘা পটল করেছি এই দামে পটল বিক্রি করে সার কীটনাশক কিনতেই টাকা শেষ । এদিকে মসলা জাতীয় ফসল পিঁয়াজ ৮০০ থেকে ১০০০টাকা মণ এবং রসুনের বাজার ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা মণ যা কৃষকেরা আরো বেশী বিপাকে পড়েছে।
কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন এখন সার কীটনাশক সহ অন্যান্য দোকানে হালখাতা, পিঁয়াজ রসুনের দাম না পাওয়ায় হালখাতার টাকা পরিশোধ করতে পারছি না।
বাজারে বিক্রি করতে আসা কৃষকদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে সবজি ও মসলা জাতীয় ফসলের দাম এতটাই কমে গেছে যে, ক্ষেত থেকে ফসল তোলার খরচ উঠছে না।
মাঠের কৃষক সোনা মন্ডল বলেন সার, বীজ, আর কামলার যে দাম, সেই তুলনায় বাজারে ফসলের দাম নাই। এক মণ রসুন বা পেঁয়াজ বেচে খাটাখাটনির অর্ধেক পয়সাও ঘরে আসছে না। দুই বছর ধরে দেনা পরিশোধ করতে পারছি না।
কৃষকের এই আর্থিক সংকটের ধারাবাহিক প্রভাব পড়েছে পুঠিয়ার বিভিন্ন হাট বাজারে বানেশ্বর, ঝলমলিয়া ও বিড়ালদহসহ বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে।
বানেশ্বর এক কীটনাশক বিক্রেতা হালখাতা শেষে বলেন , কোম্পানির লোক টাকা পাবে হালখাতায় ৫০% কাস্টমার উপস্থিত হয়েছে। যারা আইছে তারা টাকা পরিশোধ করতে পারেনি।এই ক্যালেকশনে কোম্পানি শোধ হবে না।
এক মুদি ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে: বকেয়া আদায়ে হালখাতার চিঠি পাঠানো হলেও ২৫-৩০ শতাংশ বকেয়া টাকাও ওঠেনি।
এমতাবস্থায় কৃষক ব্যবসায়ীদের দাবি বর্তমানে কৃষকদের উৎপাদিত খরচ বিবেচনায় কৃষিপণ্যের দাম পাওয়ায় বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।