ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীকে শাসন করায় ৩ শিক্ষিকাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর, থানায় মামলা
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে ধমক দিয়ে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ৩ শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীকে (২৫) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন, শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী ও সেলিনা বেগম।
আহতদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুড়ুলিয়া গ্রামের ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় ঝর্ণা খাতুন সাথী বাদী হয়ে ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। আসামীরা হলেন উজ্জল মাল, বাসিদ মাল, বাদশা মাল, লিপি খাতুন ও বর্ষা খাতুন।
অভিযোগে জানা গেছে, স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে এসে হামলা চালান। তারা শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীসহ ৩ শিক্ষককে মারপিট করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় এনে প্রকাশ্যে মারপিট করেন হামলাকারীরা। স্কুলশিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে নিয়মিত না আসা ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে শাসন করেন।
এতে শিক্ষার্থী অপমানবোধ করে বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের নিকট তাকে অপমান করা হয়েছে বলে জানায়। এর কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থীর মামা মো. উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন স্কুলে এসে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে হামলাকারীরা অধ্যক্ষের মা ও বোনকে হুমকি দেন এবং কিলঘুষি মারেন। একপর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী এগিয়ে এলে উজ্জ্বল মালসহ তারা শিক্ষক সাথীকেও মারপিট করেন। হামলাকারীরা তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্কুলের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা জানান, স্কুল নির্মাণের পর থেকেই উজ্জ্বল মাল নানাভাবে তাঁদের বিরক্ত করছিলেন। কোনো কিছু হলেই তিনি স্কুলের ওপর চড়াও হতেন।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে তাঁর ভাগনি স্কুলে নিয়মিত না আসায় আমি তাকে ধমক দিয়ে শাসন করি এবং নিয়মিত স্কুলে আসতে বলি। কিন্তু তাঁরা বিষয়টি না বুঝেই স্কুলে হামলা চালিয়ে স্কুলশিক্ষকসহ আরও দুজনকে আহত করেছেন। ঘটনার সময় স্কুলে না থাকায় তিনি হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান। অভিযুক্ত উজ্জ্বল মালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য এলাকায় বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।