প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর দাবিতে স্মারকলিপি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আরসিসিআই)। রোববার (২৮ জুন) দুপুর দুইটার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হোসেন আলী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্য বহনকারী একটি পূর্ণাঙ্গ মাদার ভেসেলে সাধারণত ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করা হয়। এ ধরনের একটি মাদার ভেসেলের জন্য এলসি খাতে প্রায় ১১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। অথচ একই পরিমাণ পণ্য সুলতানগঞ্জ-মায়া (ধুলিয়ান) নৌপথ ব্যবহার করে আমদানি করা হলে এলসি ব্যয় কমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে নেমে আসে। ফলে একটি মাদার ভেসেলের সমপরিমাণ পণ্য আমদানিতে প্রায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।
সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরটি কাস্টমস সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন কাঁচামাল স্বল্প ব্যয়ে আমদানি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে উৎপাদিত মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার মায়া (ধুলিয়ান) নদীবন্দরের মধ্যে প্রায় ছয় দশক আগে নিয়মিত নৌ-বাণিজ্য পরিচালিত হতো। ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পুনরায় চালু করা হলেও মাত্র ১০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
গেল ১৬ জুন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, কাস্টমস, ভ্যাট কমিশনারেট, বিআইডব্লিউটিএ, বিজিবি, নৌপুলিশ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সকল পক্ষ সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর শুল্কায়ন কার্যক্রম পুনরায় চালু ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে মতামত দেন।
সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে ভারি পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাবে, সরকারি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে। একই সঙ্গে নৌপথে পরিবহন জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হোসেন আলী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরটি কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি সেবাসহ দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।