শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজশাহীতে মৃদ্যু তাপপ্রবাহ

দেখা মিলতে পারে বৃষ্টির
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুন ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুন ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে মৃদ্যু তাপপ্রবাহ

পদ্মাপাড়ের নগরীতে গেল কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা টানা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। যা রূপ নিয়েছে ভ্যাপসা গরমে। আষাঢ় মাসেও চেনা বৃষ্টির দেখা নেই, উল্টো সকাল গড়াতেই সূর্যের তাপ বাড়ছে। তবে এই ভ্যাপসা গরমে অব্যাহত আছে লোডশেডিং। বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা করে থাকছে না বিদ্যুৎ। 


তবে নেসকো বলছে, মঙ্গলবার লোডশেডিং ছিল। চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এদিন রাজশাহীতে ১১৮ মেগাওয়াট চাহিদা ছিল। এর বিপরীতে ১১৮ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।   


আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গেল বুধবার (২৪ জুন) থেকে সোমবার (২৯ জুন) পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করেছে। সোমবার (২৯ জুন) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা অন্য দিনের তুলনায় কমেছে তাপমাত্রা। রোববার (২৮ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (২৭ জুন) সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (২৬ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ছিল ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (২৪ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


এই ভ্যাপসা গরমে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও দিনমজুরেরা। দুপুরের তপ্ত রোদে পিচঢালা পথ যেন আগুনের চুল্লি। এই অবস্থায় বিভিন্ন চাকরিজীবী থেকে শুরু করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। 


গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সাধারণ মানুষ ছুটছেন তরল খাবারের খোঁজে। নগরীর মোড়ে মোড়ে ডাব এবং ঠাণ্ডা শরবতের দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরমে ডাবের চাহিদা হওয়ায় বিক্রেতারাও ডাব বিক্রি করে তাদের ব্যবসার হাল ধরে রেখেছেন। সাইজভেদে একেকটি ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সাধারণ ক্রেতারা এই গরম থেকে বাঁচতে খাচ্ছেন। পিচঢালা রাস্তায় একটু স্বস্তির খোঁজে পথচারিরা ভিড় করছেন আখের রসের দোকানে। চোখের সামনে কল থেকে পিষে বের করা বরফশীতল এক গ্লাস আখের রস মাত্র ২০ টাকায় পেয়ে মুহূর্তেই জুড়িয়ে নিচ্ছেন প্রাণ।


ভদ্রা এলাকায় এক ক্লান্ত রিকশাচালক বলেন, এই ভ্যাপসা গরমে রাস্তায় টেকা দায়। একটু জিরিয়ে নেওয়ারও উপায় নেই, বাতাসের বদলে যেন আগুন ছুটছে। কোনো উপায় না পেয়ে বের হতেই হয়।


তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘাম ও ক্লান্তির কারণে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, গরমে ক্লাসে বসা যাচ্ছে না, গা বেয়ে ঘাম ঝরছে। রাতের বেলাও ভ্যাপসা গরম আর লোডশেডিঙের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে সামনে অনেক জলদি অসুস্থ হয়ে যাব। 


রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, গেল কয়েকদিন রাজশাহীর উপর দিয়ে মৃদ্যু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। সোমবার তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও রাজশাহী নগরীতে বৃষ্টির দেখা মিলছে না। আকাশে মেঘ থাকলেও তা কেটে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে মঙ্গলবার ও বুধবার বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও জুলাই মাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।