গোদাগাড়ীতে ঐতিহাসিক সান্তাল হুল দিবস উদযাপিত
“যেখানে অধিকা-বঞ্চনা সেখানেই হুল” স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৩০ জুন) গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাটে সিসিবিভিও ও ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড, জার্মানীর সহযোগিতায় এবং রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি ও গ্রামসংগঠন সমূহের আয়োজনে রক্ষাগোলা সংগঠনের নৃতাত্ত্বিক জনগণের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভার মাধ্যমে ঐতিহাসিক সান্তাল হুল দিবস পালিত হয়। দিবস পালনের অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সিষ্টি টুডু। সান্তাল হুল দিবসের প্রেক্ষাপট ও মহত্ব্য আলোচনা করেন সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা যোসেফ রাম দাস হাঁসদা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সংগঠনের নেতা রিপন টুডু, জুলিতা মূর্মূ, রঘুনাথ পাহাড়িয়া।
সিসিবিভিও শাখা কার্যালয় হতে কাকনবাজার প্রদক্ষিণ করে কাকনহাট পৌরসভা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সভার সভাপতির সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু করা হয়। বক্তাগণ বলেন, ১৭১ বছর ধরে দিবসটি সাঁওতালদের কাছে দাবি আদায়ের গৌরবোজ্জ্বল দিন হলেও আমরা এখনো শোষণ আর বঞ্চনার শিকার। এখনো ফিরে পায়নি ভূমির অধিকার। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি আজও।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাামের ইতিহাসে আজ থেকে ১৭১ বছর আগে ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এটি ছিল প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম। সাঁওতাল বিদ্রোহীদের সেদিনের দেশপ্রেমিক সংগ্রাম, আদর্শ ও অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে ভারতবর্ষের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক দুইভাই সিধু মুরমু ও কানু মুরমু স্মরণে ও শ্রদ্ধায় সাঁওতালদের অনেকেই দিনটিকে সিধু-কানু দিবস বলে থাকেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের এদেশীয় দালাল সামন্ত জমিদার, সুদখোর, তাদের লাঠিয়াল বাহিনী, দারোগা-পুলিশের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাঁওতাল নেতাসিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব, এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে রুখে দাঁড়ান সাঁওতালরা। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের দুই বোন ফুলোমনি মুরমু ও ঝালোমনি মুরমু।