শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

স্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ডা. নাজিব ওয়াদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০১ জুলাই ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০১ জুলাই ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন
স্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ডা. নাজিব ওয়াদুদ

স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালের ‘প্রফেসর ইমেরিটাস ড. মুক্তার মুহাম্মদ আলী অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসক (চুক্তিভিত্তিক) ডা. মো. আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি নাজিব ওয়াদুদ নামে বেশি পরিচিত। বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পিএইচডি গবেষণাকালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা, মান ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার ভিত্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিবছর একজন গবেষককে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ এবং নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ছায়েদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. নাজিব ওয়াদুদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। এ সময় বক্তারা গবেষণাক্ষেত্রে তাঁর ধারাবাহিক পরিশ্রম, একাগ্রতা ও সাফল্যের প্রশংসা করেন। ডা. নাজিব ওয়াদুদ পিএইচডি গবেষণাকালে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্কপাস অনুমোদিত জার্নালে মোট ১২টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। একই সময়ে অন্যান্য জার্নালে তাঁর আরও আটটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ, জনস্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণায় তাঁর এসব প্রবন্ধ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


ডা. ওয়াদুদ ২০২০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি গবেষণায় তাঁর নিয়মিত অংশগ্রহণ তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।


অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে ডা. নাজিব ওয়াদুদ বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সম্মানের। চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার মধ্যেও গবেষণা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে মানুষের স্বাস্থ্য, রোগপ্রবণতা, চিকিৎসাসেবা ও জনস্বাস্থ্যের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার আগ্রহই আমাকে গবেষণায় ধরে রেখেছে। এই অ্যাওয়ার্ড আমার একার নয়; আমার শিক্ষক, সহকর্মী, পরিবার এবং গবেষণা-সহযোগীদের সম্মিলিত প্রেরণার ফল।”


স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে স্বাস্থ্য গবেষণায় সম্ভাবনা অনেক, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। মানসম্মত তথ্য সংগ্রহ, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা এবং গবেষণার ফল বাস্তব নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসক, পরিসংখ্যানবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। ভালো গবেষণা শুধু জার্নালে প্রকাশের জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্যও জরুরি।”


দেশের স্বাস্থ্যখাতে আরও বেশি প্রমাণভিত্তিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন ডা. নাজিব ওয়াদুদ। তিনি বলেন, রোগভিত্তিক গবেষণা, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবেষণায় ধৈর্য, সততা ও পদ্ধতিগত শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


উল্লেখ্য, ডা. নাজিব ওয়াদুদ চিকিৎসক ও গবেষক হওয়ার পাশাপাশি সমকালের একজন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও অনুবাদক হিসেবেও সুপরিচিত। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৫। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। চিকিৎসা, গবেষণা ও সাহিত্য—তিন ক্ষেত্রেই তাঁর বহুমাত্রিক কাজ রাজশাহীর বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তাঁকে একটি পরিচিত নাম করে তুলেছে।