শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে। সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, বিভিন্ন সংস্থা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর তা যাচাই করতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।


বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) উপপ্রধান তত্ত্বাবধায়ক এস এম মাহমুদ আরাফাত এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, মহড়ায় সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু করা, কারিগরি সক্ষমতা যাচাই, সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব মূল্যায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও তাদের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিও-সেফটি’র প্রতিনিধিরা কর্মসূচিটি সরেজমিনে দেখেন। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, জাতীয় সংকট কেন্দ্র, ‘সিআরইএ’, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। রাশিয়ার মস্কো থেকে আসা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদলও পুরো আয়োজন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি কৃত্রিম জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এরপর পূর্বনির্ধারিত আপৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়। দায়িত্ব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অনুশীলন চালায়।


এ সময় কারিগরি দল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন পরিচালনাগত তথ্য বিশ্লেষণ, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরিমাপ, বিকিরণের উৎস শনাক্ত, আবহাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বায়ুন্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং বিকিরণের মাত্রা নির্ধারণের কাজ করে। একই সঙ্গে কর্মরত ব্যক্তি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়।


এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সাড়াদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হয়। জরুরি বার্তা পাঠানো, পরিস্থিতি প্রতিবেদন প্রস্তুত, সমন্বয় সভা আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াও এ কর্মসূচিতে পরীক্ষা করা হয়।


মহড়া শেষে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘আজকের এই সফল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আপৎকালীন প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন। এটি আমাদের উচ্চমানের কারিগরি দক্ষতা, সঠিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জরুরি সাড়াদানকারী সংস্থাগুলোর যৌথ সক্ষমতার বহি:প্রকাশ।’


তিনি আরও বলেন, ‘মহড়ার একটি বড় লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত কমান্ড ব্যবস্থার অধীনে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা। অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও কারিগরি দলের অংশগ্রহণ মহড়াটিকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে।