ঈশ্বরদীতে স্কুলে হামলা ভাঙচুর : বিএনপি নেতা হাবিবকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন বিএনপির
পাবনার ঈশ্বরদীর জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনার অনুষ্ঠান নিয়ে সংঘঠিত হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথপুর গ্রামের বটতলায় সলিমপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. মইনুল ইসলাম সরদার। তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের একটি স্কুলের অনুষ্ঠান নিয়ে এলাকাবাসী, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিএনপির একটি অংশের কতিপয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব একজন জাতীয় নেতা, ঘটনার দিন তিনি ঢাকাতে ছিলেন, ঈশ্বরদীতে সেদিন ছিলেনই না অথচ স্কুল পরিচালনা কমিটি ও বিএনপির যে সকল নেতা কর্মীরা বিগত নির্বাচনে ধানের শীষকে পরাজিত করতে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন করেছিলেন তারা গ্রামের এই ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। বিএনপি এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘঠিত ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। মুলত একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রধান অতিথি করার কারণে এলাকার সাধারন বাসিন্দারা তা মেনে নিতে না পারায় জনগনের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। অথচ একটি স্বাভাবিক সামাজিক ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যে ব্যবহার করে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
এসময় শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে ৫ বছর সাজাভোগ কারী বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ফজলুর রহমানের পদের বৈধতার চ্যালেঞ্জ করে আমরা এই এলাকার সকল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারনের পক্ষ থেকে তাকে এই স্কুলেই শুধু নয়, গ্রামেই তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল, ৭নং ওয়াার্ড বিএনপির সভাপতি জালাল প্রামাণিক, সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাসান আলী বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদুল মেম্বার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলম প্রামাণিক, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা মোস্তফা মনিক্কা, আব্দুল হাই জালাল, এবাদত সরদার, যুবদল নেতা আরিফ বাঙাল, ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য সচিব ওমর শরীফ হানিফ, উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাস্টার প্রমুখ। এসময় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।