শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পাবনায় পেঁয়াজের দরপতনে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

শাহীন রহমান, পাবনা ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
শাহীন রহমান, পাবনা ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন
পাবনায় পেঁয়াজের দরপতনে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
হাটে কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনছেন ব্যাপারীরা

পেঁয়াজ উৎপাদনের এলাকা হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা পাবনায় হঠাৎ করেই দরপতন হয়েছে পেঁয়াজের। বর্তমানে হাটগুলোতে পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা মণ দরে। অথচ মাস খানেক আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০০ টাকা মণ। বর্তমানে বাজারদর নিয়ে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।


বুধবার (০১ জুলাই) পাবনার বড় বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী মমিন হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা মণ দরে। খুচরা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। মাস খানেক আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।


দাম কমার কারণ হিসেবে এসব ব্যবসায়ীদের মন্তব্য, এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকের ঘরে অনেক পেঁয়াজ আছে। তারা পেঁয়াজ রাখতে পারছেন না, পঁচে যাচ্ছে। যেকারণে হাটে পেঁয়াজের আমদানী বেড়েছে অনেক। তাই দাম কমেছে।


চাটমোহর উপজেলার ভাদড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি হাসু প্রামানিক বলেন, তিনি ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। মাস খানেক আগে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণ বিক্রি করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই পেয়াজ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে করে পেঁয়াজ আবাদে যে টাকা খরচ হয়েছে। দরপতন হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না সংশয় রয়েছে তার।


সাঁথিয়া উপজেলার কোনাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, গত সোমবার সাঁথিয়ার বোয়াইলমারী হাটে পেঁয়াজ বিক্রি কছেন ৯০০ টাকা মন দরে। এ দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে ঘরে রাখা পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও দাম কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।


পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম বলেন, এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন ছিল। সব কৃষকের তো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নাই। সবাই একসঙ্গে পেঁয়াজ বিক্রি করায় হাটে সরবরাহ বেড়েছে। যে কারণে দাম কমেছে।


তিনি বলেন, জেলায় পেঁয়াজ চাষী আছে অন্তত লক্ষাধিক। সেখানে পেঁয়াজ সংরক্ষণ পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে মাত্র আড়াই হাজার কৃষককে। বেশিরভাগ কৃষক নিজেদের মতো করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে কৃষক তখন পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর পাবনা জেলায় ৫৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয় ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। আর ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ মেট্টিকটন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৭ মেট্টিকটন।