শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বগুড়ায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি ১০ শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত পলাতক

বগুড়া প্রতিনিধি ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন
বগুড়ায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি ১০ শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত পলাতক

এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর দিনে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী। কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে ফরম পূরণের নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরু হলেও ওই শিক্ষার্থীদের কেউই প্রবেশপত্র পাননি।

পরীক্ষা শুরুর দিন বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে কলেজে এসে প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা কলেজের সামনে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বুধবার থেকে পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাত নয়টার পর থেকে মুঠোফোন বন্ধ করে নিখোঁজ হন তিনি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত কলেজে অপেক্ষা করে প্রবেশপত্র না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বৃহস্পতিবার সকালে পরীক্ষা দিতে না পেরে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগীরা।

কলেজ সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন।

গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় তাদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও তারা কেউ প্রবেশপত্র বা নিবন্ধন কার্ড পাননি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাগজপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটরের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও এক কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলেন, শাওন আমাদের বলেছিল, সে কলেজের স্টাফ, স্যারদের বলে সব ব্যবস্থা করে দেবে। এই বিশ্বাসে আমরা তাকে টাকা দিই। কিন্তু সে শুধু আজকে-কালকে বলে ঘুরাচ্ছিল। বুধবার দুপুরের দিকে কলেজে এসে যখন প্রিন্সিপাল স্যারকে জানাই, স্যার বলেন এখন আর কিছু করার নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া স্টাফ যদি এ প্রতারণা করে, তবে এর দায় কি কলেজ এড়াতে পারে? আমাদের একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল, আমরা ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বছর মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনটি বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।