রাণীনগরে রাস্তার ইট তুলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, চরম ভোগান্তিতে গ্রামবাসী
নওগাঁর রাণীনগরে গ্রামীণ রাস্তার ইট তুলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। আ’লীগের দোসর ওই পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিবেশীরা। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকলেও ওই গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ আ’লীগের দাপুটে নেতা মজিবর রহমান টিকাদার ওরফে বাবুকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
এজাহার সূত্রে ও স্থানীয়দের অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায় যে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের খট্টেশ্বর পশ্চিমপাড়ায় (তুলাপট্টিপাড়া) প্রবেশের একমাত্র গ্রামীণ সরু রাস্তাটিতে ইট বিছানো রয়েছে। যে রাস্তাটি দিয়ে প্রতিনিয়তই শতাধিক পরিবারের লোকজন চলাচল করে। সম্প্রতি রাস্তার ইট তুলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে আ’লীগ নেতা ওই গ্রামের মৃত-মবেশ আলী টিকাদারের ছেলে আ’লীগ নেতা মজিবর রহমান টিকাদার।
এমন কাজে বাঁধা দিলে মজিবর, তার স্ত্রী এছেনা বিবি ও তার পরিবারের সকল সদস্য প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা চালিয়ে পার্শ্ববর্তি মোজাফ্ফর হোসেন, তার স্ত্রী জলি বিবি ও ছেলের বউ শ্রাবণী আক্তার গুরুতর আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এসময় মজিবরের পরিবারের সদস্যরা মারপিটের সময় কৌশল করে আহত নারীদের শরীর থেকে আনুমানিক ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের সোনার গহনা ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তিতে মোজাফ্ফরের ছেলে জুয়েল বাদি হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করলে থানা পুলিশ আ’লীগ নেতা মজিবর রহমান টিকাদারকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এরপর থেকে প্রতিনিয়তই মজিবর রহমানের স্ত্রী এছেনা বিবি ও অন্য সদস্যরা প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে গালমন্দ করায় সেখানে উত্তেজনাকর একটি পরিবেশ বিরাজ করছে। কিন্তু বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সমাধান করার নির্দেশনা প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি সমাধান না করার কারণে ওই গ্রামে সব সময় একটি ঝগড়াটে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে স্থানীয়দের দাবী।
স্থানীয় বাসিন্দা বকুল, আ. মান্নান, আজাদ, ইয়াদুলসহ অনেকেই বলেন, মজিবর ও তার পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক সরকারি রাস্তায় থাকা সোলিং করা ইট তুলে সেই রাস্তার জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করে। এতে করে ছোট রাস্তাটি আরো সরু হয়ে আসছে। গ্রামবাসী তাদেরকে নিষেধ করলেও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে পরিবারের লোকজন প্রতিবাদকারীদের খুন জখম, মারপিট করাসহ নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। ওই পরিবারের ভয়ে পুরো গ্রামের মানুষ ভয়ে থাকে। এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য ওই পরিবারের সকলকে আইনের আওতায় আনতে গ্রামবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছে।
১নং খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দনা শারমিন রুমকি জানান, মজিবরের পরিবার খুবই দজ্জাল। গ্রামের কোন বাসিন্দার সঙ্গে ওই পরিবারের সুসম্পর্ক নেই। সরেজমিনে গিয়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি জানার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এরপরও যদি সমস্যাটি সমাধান না হয় তাহলে দ্রুতই সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।