শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

কবি সোহেল মাহবুব পেলেন ‘কবি ফররুখ পদক’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ জুলাই ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ জুলাই ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
কবি সোহেল মাহবুব পেলেন ‘কবি ফররুখ পদক’

কবিতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কবি ফররুখ পদক’ পেয়েছেন রাজশাহীর কবি ও গল্পকার সোহেল মাহবুব। শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত গুণিজন সংবর্ধনা ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি ও গবেষক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও গীতিকার অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কবি, গবেষক ও গীতিকার নাদিয়া আহমেদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদের চেয়ারম্যান, কবি, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ফেরদৌসি আহমেদ।

সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে কবি সোহেল মাহবুব বলেন, ‘কবি ফররুখ পদক আমার সাহিত্যজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এই সম্মান আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে সাহিত্যচর্চা করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি বিশ্বাস করি, একজন কবির সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পাঠক এবং তাঁদের ভালোবাসা। এই অর্জন আমি আমার পরিবার, শিক্ষক, সহযোদ্ধা সাহিত্যিক এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উৎসর্গ করছি। বিশেষ করে রাজশাহীর সাহিত্যাঙ্গনের মানুষের নিরন্তর উৎসাহ আমাকে সব সময় সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের জীবন, সময় ও সমাজের গল্প কবিতার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

উল্লেখ্য, সাহিত্যে অবদানের জন্য এর আগে তিনি ২০০৮ সালে খান জাহান আলী সাহিত্য পুরস্কার, ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মহাত্মাগান্ধী পদক ও রবীন্দ্র সাহিত্য পদক এবং ২০১৮ সালে কবি আবুল কাছিম কিশোরী পদক লাভ করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও তিনি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সন্তান সোহেল মাহবুব ১৯৭৭ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. হাবিবুর রহমান ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষক। পারিবারিক সাহিত্যচর্চার পরিবেশেই তাঁর সাহিত্যজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে কবিতা, গল্প এবং লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর সাতটি একক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কাব্যগ্রন্থ- নিশিকাব্যযান (২০০৭), রোদের রুমাল (২০১২), শ্বেত বালিকার কাব্যে বালক বেদনা (২০১৪), মাতাল সাঁকো (২০১৮), প্রেমের কবিতা (২০১৯) এবং নেমে আসে উড়ন্ত জল (২০২২)। এছাড়া ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গল্পগ্রন্থ জেলখানার পরী। তিনি ‘ছায়া’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছেন এবং বর্তমানে ‘কুসুম্বী’ নামের আরেকটি সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।