শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসনের দাবিতে নগরীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ জুলাই ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ জুলাই ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ন
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসনের দাবিতে নগরীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর আলুপট্টি মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। নগরীর আলুপট্টি মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর কুমারপাড়া মোড়, সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, মণিচত্বর, রাজশাহী কলেজের সামনে দিয়ে ও সোনাদীঘির মোড় হয়ে বাটার মোড়ে এসে শেষ হয়।


বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ বলেন, “২০২৪ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ রচিত হয়েছিল। কিন্তু দেশ থেকে এক ফ্যাসিজমের বিদায় হলেও অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে নতুনভাবে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছে এবং স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে।” দেশে খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও লুটতরাজ বেড়ে চলেছে অভিযোগ করে তারা বলেন, জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে; সুতরাং বিএনপির পতনের জন্য ১৭ দিনও সময় লাগবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।


নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গণভোটের পক্ষে ভোট দেয়ার কথা বললেও নির্বাচন-পরবর্তীতে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান এদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, বিধায় ওই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে নতুন সংবিধান রচনা করতে হবে।


সরকারকে হুঁশিয়ার করে জোটের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার যদি নব্য ফ্যাসিবাদ হয়ে ওঠে, তবে আগামীতে ১১ দলীয় জোট সব ধরনের সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকবে। সরকার যদি মনে করে জুলাইয়ের গণরায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকবে, তাহলে তারা ভুল সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে। অবিলম্বে গণভোটের রায়কে মেনে নিয়ে সংসদে আইন পাস করার আহ্বান জানান তারা। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দাম না কমানোয় অবিলম্বে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর দাবি জানানো হয়।


সমাবেশ ও মিছিলে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, জামায়াতে ইসলামী জিন্দাবাদ’, ‘জুলাই নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘গণভোট মেনে নে, নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘জুলাই সনদ মেনে নে, নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি।


রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শাহাদৎ হোসাইনের সঞ্চালনায় নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে বিক্ষােভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর নায়েবে আমীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহানগরীর ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরী সদস্য সচিব মো. আতিকুর রহমান। ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজির প্রমুখ।