শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে সড়কে ডিম ফেলে খামারিদের সড়ক অবরোধ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০৫ জুলাই ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০৫ জুলাই ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে সড়কে ডিম ফেলে খামারিদের সড়ক অবরোধ

সড়কে ডিম ভেঙ্গে সড়ক অবরোধ করে ডিমের নায্য মূল্য নির্ধারণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর অর্ধশতাধিক খামারিরা। 

রোববার (৫ জুলাই) উপজেলার মুলাডুলি বাজারের ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

এসময় সড়ক অবরোধ করে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এসময় মহাসড়কে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈশ্বরদী পোল্ট্রি খামার এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া খামারিদের হাতে ছিল নানা দাবী সংবলিত প্লাকার্ড ও ব্যানার। এতে ‘ডিমের সঠিক দাম চাই, ন্যায্য অধিকার চাই’, ‘খাদ্যের দাম কমাও খামারিদের বাঁচাও, আমদানি নয় দেশীয় খামার বাঁচাও’ এমন বিভিন্ন স্লোগান লিখা ছিল।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল-ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, স্বল্প সুদে কর্পোরেট কোম্পানি নয় প্রান্তিক খামারিদের ঋণ সুবিধা প্রদান, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানো, ভেটেরিনারি সংক্রান্ত ওষুধের শুল্ক ও দাম কমানো, কর্পোরেট কোম্পানি নামে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে তা ভেঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের গুরুত্ব প্রদান।

মুলাডুলি বাজারের বিপ্লব ভেটেরিনারির স্বত্তাধিকারী বিপ্লব হোসেন বলেন, শুধুমাত্র কর্পোরেট কোম্পানি নামে বড় সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামার ও খামারিরা আজ ধ্বংসের পথে। খামারে একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ হয় ৯ টাকার বেশি যা বাজারে বিক্রি করতে হবে ১০ টাকা বা ১০ টাকা ৫০ পয়সা। সেখানে সেই খামারি ডিম প্রতি দাম পাচ্ছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা করে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যের দাম কামানোর কথা বলা হলেও তা এখনও কার্যকর করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে প্রান্তিক খামারিরা বাঁচবে কিভাবে?

খামারি ইমদাদুল হক মিলন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পোল্ট্রি খাদ্য ও মেডিসিনের দাম না কমিয়ে বার বার ডিমের দাম কমিয়ে আমাদের মত ক্ষুদ্র খামারিদের শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও-ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে খামার করে বিপাকে পড়েছে খামারিরা। তাই বাধ্য হয়ে সড়কে এসে ডিম ভেঙ্গে সরকারের দৃষ্টিগোচর করছি। ক্ষুদ্র খামারিদের সঙ্গে এমন বৈষম্য ও অবিচার বন্ধ করতে হবে। খামারি মফিজউদ্দিন মানিক, আয়েন খাঁ ও মাসুদ গাজীসহ আরো কয়েকজন খামারী বলেন, আজকের এ প্রতিবাদ শুধু ডিমের দাম নিয়ে নয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পোল্ট্রি খাদ্য বস্তাপ্রতি ছিল ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা তা কয়েক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার ঘরে। সেসময় সরকার ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম নির্ধারন করে দিল ১০ টাকা ৫৮ পয়সা যা এখন খাদ্য ও মেডিসিনের দামের সঙ্গে কোন সামঞ্জস্যতা নেই।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, তাদের এ কর্মসূচির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তারা তাদের দাবি নিয়ে শুরুতেই উচিত ছিল ইউএনও স্যারসহ আমাদের সঙ্গে আলাপ করা। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।