শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দুই বছর ধরে মন্দিরের বারান্দায় চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
দুই বছর ধরে মন্দিরের বারান্দায় চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান
সংগৃহীত ছবি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক দুলালী রাজকাছারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ বা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে পাশের একটি মন্দিরের বারান্দায়।

জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা তালুক দুলালী গ্রামে শিক্ষার প্রসারে ১৯৭৮ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সরকার দুটি ভবন নির্মাণ করে এবং ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে ছয়জন শিক্ষক পাঠদান করেন।

দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

অন্য ভবনের তিনটি কক্ষের একটি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর বাকি দুটি কক্ষে পাঠদান চলছে। কিন্তু দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনার জন্য অন্তত তিনটি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে পাশের দুর্গা মন্দিরের বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে প্রথম শিফটে প্রাক-প্রাথমিক এবং দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মন্দিরের বারান্দার মেঝেতে বসে পাঠ গ্রহণ করছে। খোলামেলা পরিবেশে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ।

শিক্ষার্থী শারমিন, তাননিশা ও সিয়াম ইসলাম জানায়, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা মন্দিরের বারান্দায় ক্লাস করছে। সেখানে তাদের ভালো লাগে না। তারা দ্রুত একটি নতুন ভবন অথবা অন্তত একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানায়।

অভিভাবক আব্দুল করিম বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মন্দির কমিটির অনুমতি নিয়ে অস্থায়ীভাবে সেখানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খোলামেলা পরিবেশে শিশুরা ঠিকমতো পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। তিনি দ্রুত একটি টিনশেড বা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

তালুক দুলালী রাজকাছারী দুর্গা মন্দিরের সভাপতি ললিত চন্দ্র বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুরোধে সাময়িকভাবে মন্দিরের বারান্দা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের কারণে মন্দিরে ময়লা-আবর্জনা জমছে, যা পরিষ্কার করাও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। তারপরও শিশুদের শিক্ষার স্বার্থে তারা সহযোগিতা করছেন। দ্রুত বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সন্ধ্যা রানী বলেন, প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের খোলামেলা পরিবেশে পাঠদান করানো অত্যন্ত কঠিন। তারা চারপাশের পরিবেশে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় দুই বছর ধরে এভাবে পাঠদান চলায় শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর থেকে নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এমনকি অস্থায়ী টিনশেড কক্ষের আবেদনও করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই মন্দিরের বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়টি তিনি পরিদর্শন করেছেন। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মন্দিরের বারান্দায় পাঠদান করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপাতত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হবে।

তথ্যসূত্র : বাংলানিউজ