শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মহাদেবপুরে অধ্যক্ষ আরিফ এখন ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’

ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর ০৬ জুলাই ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর ০৬ জুলাই ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ন
মহাদেবপুরে অধ্যক্ষ আরিফ এখন ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’

পেশায় শিক্ষক। নেশা সবুজায়ন। যেখানেই যান নিজস্ব অর্থায়নে করেন বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সবুজ-শ্যামল দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ইতোমধ্যে নজর কেড়েছেন নওগাঁর মহাদেবপুরের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান (আরিফ)। এলাকায় সবুজের ফেরিওয়ালা হিসেবে অধিক পরিচিত তিনি। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আরিফুর এখন অনেকের কাছেই সবুজ বিপ্লবের অনুপ্রেরণার নাম।


জেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার সবুজায়নের স্পষ্ট ছাপ। হাসাইগাড়ি বিল, সান্তাহার স্টেশন, পত্নীতলা নদীর পশ্চিম পাড়, সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষ্ণচূড়া চত্বর ও বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। পত্নীতলার ডাবরকুড়ি থেকে মহাদেবপুর উপজেলার শেষপ্রান্ত পয়নারী পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ বিভিন্ন ফুল ও ফলদ গাছ রোপণ করেছেন। এলাকাবাসীর কাছে এই সড়কটি এখন 'কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি' নামে পরিচিত।


এসব ছাড়াও বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের ২৪ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে তার প্রায় ৬৫ হাজার ফলদ, বনজ, ফুল, ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন জেলার মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও রাইগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চারা বিতরণ ও বৃক্ষ রোপণ করে আসছেন এই অধ্যক্ষ। ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নিয়মিত উপহার দেন গাছের চারা।


আরিফুর রহমান জানান, নিজের বেতনের একটি অংশ সঞ্চয় করে দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। তার স্বপ্ন দেশের ৬৪টি জেলাতেই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সবুজে ঘেরা দেশ গড়ে তোলা। ছাত্রজীবন থেকেই বন্ধুদের নিয়ে নিজ এলাকায় কয়েক হাজার তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সেই উদ্যোগের ফলে বর্তমানে এলাকাটি 'তালপার্ক' নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলতি বর্ষায় প্রত্যেকে অন্তত চারটি করে গাছ লাগাই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এর কোনো বিকল্প নেই।