শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পুঠিয়া পৌর ভবন নির্মাণের ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাত: দুদকে সাবেক দুই মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পুঠিয়া প্রতিনিধি ০৭ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পুঠিয়া প্রতিনিধি ০৭ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৬ অপরাহ্ন
পুঠিয়া পৌর ভবন নির্মাণের ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাত: দুদকে সাবেক দুই মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ থেকে মোট ৫৮ লাখ টাকা পৌর তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার দুই সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে পুঠিয়া পৌর প্রশাসন। 

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌরসভা ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে মোট ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ জনতা ব্যাংক পুঠিয়া শাখায় ‘পৌর ভবন তহবিল, পুঠিয়া পৌরসভা’ শিরোনামে খোলা একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত ছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে সাবেক মেয়র রবিউল ইসলাম এবং সাবেক মেয়র আল মামুন অর্থ উত্তোলন করেন। পরে তাঁরা কিছু অর্থ ফেরত দিলেও প্রত্যেকে ২৯ লাখ টাকা করে মোট ৫৮ লাখ টাকা এখনো পৌর তহবিলে জমা দেননি। ফলে সরকারি অর্থের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস সুমিত বলেন, পৌর ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু অডিট প্রতিবেদন ও হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের পর তার একটি অংশ আর সরকারি তহবিলে ফেরত দেওয়া হয়নি।

শিবু দাস বলেন, ‘এটি সরকারি অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, অডিট-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। এখন বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দুদকের।’

পৌরসভা সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে ওই বিশেষ ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৯ টাকা ৫৪ পয়সা জমা রয়েছে। বাকি অর্থের হিসাব ও তা সরকারি তহবিলে ফেরত না আসার বিষয়টি নিয়েই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসনের পাঠানো লিখিত অভিযোগ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তাঁদের হাতে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদকের বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান টিম গঠন করা হবে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পরে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে ফোন কলটি বিচ্ছিন্ন করেন।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের ব্যবহারে এমন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর পুঠিয়া এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং সরকারি অর্থের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।