শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

গ্রামীণ রাস্তার দুই পাশে ইট আর মাঝখানে মাটি, চরম ভোগান্তিতে গ্রামবাসী

নওগাঁ প্রতিনিধি: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০১:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নওগাঁ প্রতিনিধি: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০১:০৫ অপরাহ্ন
গ্রামীণ রাস্তার দুই পাশে ইট আর মাঝখানে মাটি, চরম ভোগান্তিতে গ্রামবাসী

নওগাঁর রাণীনগর, সদর উপজেলা ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা এই তিন উপজেলার মোহনায় অবস্থিত চরম ভাবে অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত একটি গ্রাম দড়িয়াপুর। গ্রামটি আদমদীঘি উপজেলার শেষ সীমানা হওয়ার কারণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দপ্তরের কর্মকর্তারা এই গ্রামে আসেন না বললেই চলে। এই গ্রামের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এখনো পর্যন্ত মাটির। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে হাঁটু কাঁদা পেরিয়ে শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হয়। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাণীনগর মাছ বাজার দিয়ে গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটির কিছু অংশে ইট বিছানো হয়েছে আবার কিছু অংশ মাটি রেখে আবার কিছু অংশ ইট বিছানো হয়েছে। সম্প্রতি এলজিইডির বরাদ্দ করা অর্থে মাঝের অংশ ফাঁকা রেখে চকউজির স্কুল থেকে গ্রামে প্রবেশের সামান্য অংশে ইট বিছানো হয়েছে। যার ফলে গ্রামের মোফাজছেরের বাঁশতলা থেকে মোস্তাকের দোকান সংলগ্ন ইট বিছানো রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৪শত ফিট রাস্তাটি মাটি রয়ে গেছে। স্থানীয় সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন কাজটি ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যানের এমন স্বেচ্ছাচারিতামূলক কাজে গ্রামের বাসিন্দারা চরম ক্ষুদ্ধ। 

স্বাভাবিক ভাবেই রাস্তায় ইটের কাজ যেখান থেকে শেষ হয়েছে নতুন ইট বিছানোর কাজ সেখান থেকেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মোতাবেক মাঝখানে ফাঁকা রেখেই গ্রামীণ মেঠোপথে ইট বিছানোর কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। এতে করে সুবিধার চেয়ে নতুন করে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হলো বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে পথচারীদের। চেয়ারম্যানের এমন অপরিকল্পিত কাজে গ্রামের বাসিন্দাসহ পথরাচীরা চরম ভাবে ক্ষুদ্ধ। কাজটি চেয়ারম্যান জনস্বার্থে করেনি। তিনি কাজটি করেছেন বরাদ্দের অর্থ হরিলুট করার জন্য এমনটিই অভিযোগ গ্রামবাসীদের।  

গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেন, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান রাস্তার কাজ যেখান থেকে শেষ হয়েছে পরবর্তি সময়ে আবার সেখান থেকেই শুরু হবে এটাই নিয়ম কিন্তু মাঝখানে ফাঁকা রেখে ইট বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে এটা পাগলামী ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে করে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হবে। এর চেয়ে ভালো ছিলো পুরো রাস্তাই মাটি রাখা। চেয়ারম্যানের এমন খামখেয়ালীপনা কাজ করা মোটেও ঠিক হয়নি। এছাড়া ইটের মানও খুব ভালো নয়। জানি না কাজটি কতটুকু নিয়মানুসারে হচ্ছে। এতে করে সরকারী প্রকল্পের যে লক্ষ্য সেটি ভেস্তে যাবে।

গ্রামের আরো বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস, জাফের, জামেদ আলীসহ অনেকেই জানান আধুনিকতার এই সময়ে এখনো যদি কোন গ্রামে মাটির রাস্তা থাকে তাহলে সেটি হচ্ছে এই দড়িয়াপুর গ্রাম। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে গিয়ে কাঁদার মধ্যে পড়ে লুটপুটি খায়, জরুরী কোন রোগীকে সহজে বহন করা যায় না, ছোট ছোট যানবাহন অন্যত্র রেখে আসতে হয়। উপজেলার শেষ সীমানায় গ্রামটি অবস্থিত হওয়ার কারণে কারো নজর পড়ে না। বর্তমানে মাদক থেকে শুরু করে জুয়া, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে এই গ্রাম।  

আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা জানান দড়িয়াপুর গ্রামের ইটের রাস্তার শেষ থেকে প্রায় ৯শত ফিট রাস্তা মাটির রয়েছে। চলতি বছর প্রায় ৪শত ফিট ইট বিছানোর বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। জরিপ করার সময় জরিপকারী ভুল করে চকউজির স্কুল থেকে মোফাজছেরের বাঁশবাগান পর্যন্ত প্রকল্পে উল্লেখ্য করলেও নতুন ইট বিছানো কাজ ইট বিছানো রাস্তার শেষ থেকে করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে সান্তাহার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে। কিন্তু তিনি কেন মাঝখানে ফাঁকা রেখে রাস্তায় ইট বিছানোর কাজ করেছেন সেটি তার অজানা। সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই রাস্তার পুরোটাই ইট বিছিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।