রাতভর ভারী বৃষ্টিতে সান্তাহার পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা
টানা রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (০৮ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত বৃষ্টিপাতের পর পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডের সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন পৌরবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করা, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণেই প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় স্থানীয় অসংখ্য বাসিন্দারা এই জলাবদ্ধতার ভিডিও ধারণ করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
পৌর এলাকার লকু সিভিল কলোনির বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, “রাতভর বৃষ্টির পর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বাড়ির ভেতরে, এমনকি শয়নকক্ষেও পানি ঢুকে গেছে। বাইরে বের হয়ে দেখি ড্রেন বন্ধ হয়ে থাকায় পানি নামতে পারছে না। আমরা নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও যদি এমন জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয়, তাহলে নাগরিক সেবার মান কোথায়?”
চা-বাগান সিভিল কলোনির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মর্তুজা সেলিম বলেন, “আমার বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। মহল্লার অনেক বাড়িতেই একই অবস্থা। এ সমস্যা সমাধানে এর আগেও একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে যায়। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটে। তাদের দাবি, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
এ বিষয়ে সান্তাহার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু রায়হান মণ্ডল বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন। আশা করছি, খুব দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।”