দুর্গাপুরে দাম না পেয়ে রাস্তায় সবজি ফেলে পা দিয়ে খুঁচিয়ে প্রতিবাদ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে মৌসুমি সবজির বাজারে দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে গিয়ে গাড়ি ভাড়া উঠছে না তাদের। ফলে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাজারেই সবজি ফেলে নষ্ট করছেন। আবার কেউ কেউ খেতেই গাছ কেটে সবজি নষ্ট করে দিচ্ছেন।
শুক্রবার উপজেলার কানপাড়াহাটে করলা বিক্রি করতে এসে ন্যায্য দাম না পেয়ে কয়েকজন কৃষককে বাজারে ও রাস্তায় করলা ফেলে দিতে দেখা যায়। সেই সাথে করলার খামালের উপরে ওঠে কয়েকজন কৃষক রাগে-ক্ষোভে লাফালফি করেন। এমনকি করলায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পূজাও করতে দেখা যায় চাষিদের। তারা দাম না পেয়ে সজবি নষ্ট করে এমন প্রতিবাদ জানান। কৃষকদের অভিযোগ, পাইকাররা এতো কম দাম বলছেন যে, সেই দামে বিক্রি করলে পরিবহন খরচও ওঠে না। বাজারে কয়েকজন ব্যাপারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাতে পর্যাপ্ত সবজি আসায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে, সবজির চাহিদা কমে গেছে। কম দামে কিনে নিয়ে গেলেও লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তাই তারা সবজি কিনতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
সিংগা হাটে কুমড়া বিক্রি করতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, বাজারে কুমড়া বিক্রি করতে এসে কোনো ক্রেতাই পাচ্ছিলেন না। অনেক ব্যাপারীকে অনুরোধ করার পর শেষ পর্যন্ত প্রতি পিস কুমড়া ৪ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পিঁয়াজ, আলু চাষ করে দাম না পেয়ে সেখানেও অনেক টাকা ধরা খেয়েছি। বাজারে কোনো সবজিতেই এখন আর দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে বাজারের খুচরা বিক্রেতারা এসব সবজি কিনে তিন গুণ পর্যন্ত লাভ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন টাকা কেজি দরে সবজি কিনে তারা তা ক্রেতাদের কাছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেলেও ভোক্তাদের কাছে সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকছে।
জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক আফসার আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বাৎসরিক লিজ নিয়ে তিনি ফসল উৎপাদন করেন। বর্তমানে ফসলের যে দাম, তাতে পরিবহন খরচই উঠবে না। অথচ জমি চাষ, বীজ রোপণ, কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার শুধু একটি ফসল উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।
একইভাবে পানাগর গ্রামের কৃষক আল আমিন জানান, বাজারে চিচিঙ্গার দাম না থাকায় তিনি তার দশ কাটা জমির সব চিচিঙ্গার গাছ কেটে ফেলেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবজির দামে যদি এমন অবস্থা চলতেই থাকে, তাহলে কৃষকদের পথে বসতে হবে।
বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে পাইকারি করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা ৩ টাকা কেজি। চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যা ১.৫০ টাকা কেজি, পটল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মণ যা প্রতি কেজি ৫ টাকা কেজি, বরবটি ২৫০ টাকা মণ ৫ টাকা কেজি, কুমড়া ৪ টাকা পিস, ঢেঁড়স ২০০ টাক মণ যা ৪ টাকা কেজি, লাউ ৫ টাকা পিস দরে এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে। এসব দামে সবজি বিক্রি করে উৎপাদন ব্যয়তো দূরের কথা গাড়ি ভাড়া ও লেবার খরচ উঠছে না বলে জানান কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ দিন দিন বাড়লেও বাজারে সবজির দাম তলানিতে নেমে এসেছে। এতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ নিয়ে জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ করলেও এখন সেই ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তাদের দাবি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা।