শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র হাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ জুলাই ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ জুলাই ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র হাওয়া

ছুটির দিনের বাজারে মধ্যবিত্তের পকেটে যেন এক অদৃশ্য টান পড়ছে। বাজারের এক প্রান্ত যখন স্বস্তির সুবাতাস দিচ্ছে, অন্য প্রান্ত তখন সাধারণ ক্রেতার কপালে ফেলছে চিন্তার ভাঁজ। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজশাহীর কাঁচাবাজার গুলোতে দেখা গেছে দুই ধরনের চিত্র। একদিকে মাংস ও মুরগির দোকানে বাড়তি দামের কারণে ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, অন্যদিকে সবজি ও মাছের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।


শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজশাহী নগরীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাংসের দোকানগুলো। আমিষের বাজারে বেশ চড়া ভাব। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৮০ টাকা, আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। 


মাংসের বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণের জন্য এখনও বেশ চড়া; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। তবে মুরগি ও মাংসের এই চড়া দামের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে লাল ডিম, যা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা হালিতে। হাঁসের ডিম ৬০-৬৫ দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকাতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। 


মাছের বাজারে অবশ্য ক্রেতাদের জন্য রয়েছে পছন্দের নানা সুযোগ। সবার পছন্দের তালিকায় থাকা ছোট রুই মাছ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় রুই ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি, এবং চিংড়ি ৪০০ টাকা কেজিতে মিলছে। বড় আকারের কাতল মাছ আকারভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে যেখানে সিলভার কার্প প্রতি কেজি ১৪০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস মাছ ১৭০-২৩০ টাকা, মৃগেল ২০০-৩০০, কৈ মাছ ১৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। 


এদিকে রান্নার অপরিহার্য উপাদান আলু ও পেঁয়াজের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে রসুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।


সবজি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের সন্তোষজনক উপস্থিতি। বাজারে প্রতি কেজি পটল মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং প্রতি পিস লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শসা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায়। 


দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইল ও বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। নতুন করে দাম না বাড়লেও সেই বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়। নাজিরশাইল কিনতে হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। এছাড়া বিআর-২৮ বা মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়।