শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বগুড়ার যমুনার অংশে পৃথক দুটি নৌবন্দর, আনন্দে ভাসছে দু’পাড়ের মানুষ

বগুড়া:প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া:প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ন
বগুড়ার যমুনার অংশে পৃথক দুটি নৌবন্দর, আনন্দে ভাসছে দু’পাড়ের মানুষ

দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি ও ধুনট। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নদীবন্দর দুটির সীমানা নির্ধারণ করেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে দেশে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সংখ্যা ছিল ৫৪টি।  জেলায় নতুন দুটি নদীবন্দর যুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ ও ৫৬তম অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল।

এর আগে ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বগুড়ার কৃতী সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে নদী বন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সেটি নানা কারণে থমকে যায়। দীর্ঘ বছর পর তাঁরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ার মানুষের স্বপ্ন পূরনে কাজ করছেন। বগুড়াবাসীর বহু আকাঙ্খিত দাবি পূরুণে সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় নদী বন্দর হচ্ছে এমন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের খবরে বগুড়ার মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে শুধু হুইসেলের অপেক্ষায় আনন্দে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের মানুষ।

বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (টিএ) ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত বুধবার (৮ জুলাই) প্রজ্ঞাপন সুত্রে প্রকাশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারী হয়েছে। বন্দরের উত্তর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের কালিতলা ঘাটের উত্তরে হাটশেরপুর ইউনিয়নের খুদ্দ বলাইল মৌজার দিঘাপাড়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে যমুনা নদী অতিক্রম করে পূর্ব তীরে কাজলা ইউনিয়নের বেড়া পাঁচবাড়িয়া মৌজার জামফল ঘাট পর্যন্ত।

দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চরশ্মশানপাড়া মৌজার ময়রাপাড়া ঘাটের (দেবডাঙ্গা) দক্ষিণ দিক থেকে যমুনা নদী অতিক্রম করে পূর্ব তীরে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের নারাপালা মৌজার মূলবাড়ী পর্যন্ত। নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকটালের সময় সর্বোচ্চ পানির সমতল (হাই ওয়াটার মার্ক) থেকে স্থলভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের আওতাভুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে ধুনট নদীবন্দর মথুরাপাড়া ঘাটের দক্ষিণাংশ থেকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাটসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এ বন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা ও শহরাবাড়ি ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট খাল ও নৌঘাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুই নদীবন্দরের ক্ষেত্রেই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরা পানির সময় সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে ভূ-ভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরসীমার অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নৌপথের আধুনিকায়ন, জেটি নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে যাত্রী সাধারণের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। এছাড়া প্রয়োজনে বন্দরসীমানার মধ্যে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন থাকলে তা বিআইডাব্লিউটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাতিল বলে গণ্য হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দবাইশা ও ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় নদীবন্দর স্থাপনে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে এই দুটি স্থানে পৃথকভাবে নৌপথের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মানের জন্য সংরক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। এরআগে গত ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই অভ্যন্তরিন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়রম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তাফা (জি) এটি পরিদর্শন করেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত যমুনার নৌপথে সংযোগ রক্ষায় নদী পথে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বগুড়ায় নদী বন্দর করার প্রস্তাব করা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বরাবরে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। নদীবন্দর হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই অঞ্চলের কৃষকরা অল্প খরচে ঢাকাসহ দেশের  বিভিন্ন স্থানে তাদের পণ্য পাঠাতে পারবেন।

এদিকে বগুড়ায় নৌবন্দর না থাকায় উত্তরাঞ্চলের লোকজনকে জামালপুর ময়মনসিংহ যেতে হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। আরেক দিকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও বৃহত্তর দিনাজপুরের লোকজনকে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকায় পৌঁছতে এখনও ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালু হলে দ্রুততম সময়ে বিকল্প এই পথে রাজধানী ঢাকা পৌঁছা যাবে। সাধারণ সময়ে যমুনায় নৌপথে নৌকায় করে মাদারগঞ্জ যেতে অনেক চরের মুখে পড়তে হয়। এক চর থেকে আরেক চরে হেঁটে যেত হয়। বর্ষায় যমুনার উত্তাল ঢেউয়ে নৌকা চলাচল কঠিন। তার ওপর মাঝে মধ্যেই জলদস্যুদের হামলায় পড়তে হয়। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি চালু হলে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার নৌপথ পথ পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং ঢাকা পৌঁছা যাবে।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের উত্তর জনপদের সম্ভানাময় শিল্পনগরী বগুড়া। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক দিয়ে বগুড়ার মানুষকে সৌভাগ্যবানও বলা যেতে পারে। সম্ভাবনাময় এ জেলায় এত কিছু থাকার পরেও গত ১৮ বছর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বগুড়াবাসী। ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বগুড়ার কৃতি সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে নদী বন্দর স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সেটি নানা কারণে থমকে যায়। বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত যমুনার নৌপথে ফেরি সার্ভিস দীর্ঘ সময় ধরে ফাইলবন্দী থাকলেও অবশেষে আলোর মুখ দেখছে।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসানের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ জানান, সকল জটিলতা কাটিয়ে নৌপথে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বগুড়ার দুটি উপজেলায় নদী বন্দরের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এই দুটি নৌবন্দর বাস্তবায়ন হলে ধুনট ও সারিয়াকান্দি হয়ে উঠবে উত্তরের অন্যতম নৌবন্দর। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।