শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

খেলার মাঠের রহস্য ঘিরে আসছে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দিপুদের গল্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জুলাই ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জুলাই ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন
খেলার মাঠের রহস্য ঘিরে আসছে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দিপুদের গল্প’

শিশুদের আনন্দ, স্বপ্ন, সাহস ও বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দিপুদের গল্প’। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান রচিত ‘ছোটদের পুলিশ’ গ্রন্থ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জিরো জিরো ৩৬০ নামের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী নগরীর নামোভদ্রা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্রটির কাহিনি, উদ্দেশ্য ও নির্মাণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক মুমতা হেনা মীম। বক্তব্য দেন চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান। 

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, একটি খেলার মাঠকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ‘দিপুদের গল্প’-এর কাহিনি। শিশুদের খেলাধুলা, আনন্দ ও শৈশবের নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মাঠটিকে ঘিরে হঠাৎ তৈরি হয় এক অদৃশ্য সংকট। ঘটতে থাকে একের পর এক রহস্যময় ঘটনা। কিছু অসাধু মানুষের তৎপরতা শিশুদের সামনে কঠিন এক বাস্তবতা তুলে ধরে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশুরা কীভাবে বুদ্ধি, সাহস, বন্ধুত্ব ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয় এবং তাদের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ কীভাবে ভূমিকা রাখে—এসব নিয়েই এগিয়ে যাবে চলচ্চিত্রটির গল্প। 

ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “শিশুরা আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশ, তাই তাদের সৃজনশীল ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ‘ছোটদের পুলিশ’ গ্রন্থে শিশুদের সঙ্গে পুলিশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে স্বপ্ন তুলে ধরেছিলাম, ‘দিপুদের গল্প’ সেই ভাবনাকে দৃশ্যমান করবে। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে শিশুরা সাহস, সততা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব জানতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সুবিধাবঞ্চিত ও শিশু পরিবারের সদস্যদের অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ায় এই নির্মাণটি আমার কাছে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্রটি শিশুদের পুলিশ ও সমাজ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।” 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান বলেন, “শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে অনেক সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু সেই প্রতিভা প্রকাশের উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করা। ‘দিপুদের গল্প’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। শিশুদের কল্যাণ ও মানসিক বিকাশে এমন ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।” 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের সহযোগিতায় নির্মিত হবে চলচ্চিত্রটি। এতে সব চরিত্রে অভিনয় করবে রাজশাহীর বায়া শিশু পরিবার এবং এসওএস  চিল্ড্রেন ভিলেজ রাজশাহী এর শিশুরা। পুলিশিং-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ। 

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মাসুম ও কবির জানান, ‘দিপুদের গল্প’ শুধু শিশু-কিশোরদের জন্য আনন্দদায়ক চলচ্চিত্র হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি পরিবার-পরিজনকে নিয়ে একসঙ্গে বসে উপভোগ করার মতো হৃদয়স্পর্শী ও ভাবনাজাগানিয়া নির্মাণ হয়ে উঠবে। শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরা হবে এতে। নির্মাণ শেষে চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হবে ‘দিপুদের গল্প’।